• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২০, ১১:৩৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২৭, ২০২০, ১১:৫৬ এএম

সবুজ খেতের মধ্যে বেগুনি ধান

খুলনা সংবাদদাতা 
সবুজ খেতের মধ্যে বেগুনি ধান

খুলনায় এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হয়েছে বেগুনী রঙের ধানের আবাদ। এতে করে ব্যাপক সাড়া পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের সন্নিকটে রুদাঘরা বিলে গিয়ে দেখা যায় চারিদিকে সবুজের সমারোহ মাঝখানে সোনালী আভা ছড়ানো বেগুনি রঙের ধান। ইতোমধ্যে ধানের শিষ বেরিয়েছে। যা দেখতে মানুষের ভীড় লেগে থাকে সারাক্ষন। ধানক্ষেতটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখন এর ফলন কেমন হবে, তা জানতে ধানকাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এই ধান বোরো মৌসুমের জাত।

জানা যায়, দ্য সালভেশন আর্মি নামে একটি বেসরকারী সংস্থা খুলনায় প্রথম ওই ৫ জন কৃষকের মাধ্যমে এ ধানের পরীক্ষামূলক আবাদ শুরু করছে। দেশে সর্বপ্রথম এ জাতের ধানের আবাদ শুরু হয়েছিল গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ধানের রং সোনালি আভাযুক্ত বেগুনি ও চালের রঙও বেগুনি হয়। উফশী জাতের এ ধান রোপণ থেকে পাকতে সময় লাগে ১৪৫-১৫৫ দিন। অন্য জাতের ধানের চেয়ে এ ধানের গোছা প্রতি কুশির পরিমাণ বেশি থাকায় একর প্রতি ফলনও ভালো হয়। 

বেগুনি ধানের চাষি অমল দাশ বলেন, দ্যা সালভেশন আর্মির মাধ্যমে আমরা এ ধানের বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেছি। ভিন্ন জাতের ধান হওয়ায় মানুষের মাঝে বিশেষ আকর্ষণও তৈরি হয়েছে। ধানের শীষ বেরিয়ে গেছে অনেকে শীষ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তাই সার্বক্ষণিক পাহারা দিতে হয়। এছাড়া এ ধানের আবাদ করেছেন পরিতাষ দাশ, রমেশ চন্দ্র বালা, পবিত্র মণ্ডল ও দীপঙ্কর মণ্ডল।

দ্য সালভেশন আর্মির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডানিয়েল হালদার বলেন, এ ধানের ফলন একর প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ মণ হয়ে থাকে। অন্য সব ধানের তুলনায় এ ধান মোটা, তবে পুষ্টিগুণ অনেক। এ চালের ভাত খেতেও সুস্বাদু এবং এর ভাত খেলে ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপসহ জটিল রোগের ক্ষেত্রে মেডিসিনের কাজ করে। তিনি বলেন, খুলনায় ৫ জন চাষী পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন। ফলন ভাল হলে উৎপাদিত সকল ধান বীজ আকারে রাখা হবে।

এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বেগুনি রঙের এই ধান আমাদের দেশী জাতের ধান। আগে অন্য জেলায় চাষ হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো খুলনায় চাষ হচ্ছে। এটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এ ধানে প্রচুর ফাইবার ও ভিটামিন ‘ই’ থাকায় নিয়মিত এ ধানের চালের ভাত খেলে ক্যান্সার, হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

জাগরণ/এসএইচ/এমআর