• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ, ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২১, ০৫:৩০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২২, ২০২১, ০৫:৩০ পিএম

অবাধে চলছে অতিথি পাখি নিধন

অবাধে চলছে অতিথি পাখি নিধন

সারাদেশের মতো শীতের আমেজ চলছে ফরিদপুরেও। ঘন কুয়াশায় ঢাকা নদী-নালা ও হাওরের জনপদ। শীতের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি।

শীতের মৌসুমে অতিথি পাখির আনাগোনাও শুরু হয়েছে। ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিল এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর। এদিকে চোরা শিকারিরাও তৎপর। চলছে পাখি শিকারের মহোৎসব।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিষটোঁপ কিংবা ফাঁদ পেতে অবাধে শিকার করা হচ্ছে অতিথি পাখি। এতে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবসহ অতিথি পাখির আগমন দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একশ্রেণির অসাধু পাখি শিকারি এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। 

জানা গেছে, শীত মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি আসে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে অতিথি পাখি নিধন চলছে। অসাধু পাখি শিকারিরা রাতের বেলায় কৌশলে খাল, বিল, হাওর ও জলাশয়ে ফাঁদ, জাল, খাঁচা এবং চেতনা নাশক ওষুধ ব্যবহার করে অতিথি পাখি শিকার করছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন পেশাদার পাখি শিকারি বলেন, বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই কোনোমতে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে সমস্যা হয় না। প্রতি জোড়া পাখি প্রজাতিভেদে ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। ফলে বেশি লাভের আশায় অনেকেই মাছ ধরা বাদ দিয়ে পাখি শিকার করছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিথি পাখি উপকারী প্রাণী। বিশেষ করে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে পাখির বড় ভূমিকা রয়েছে। 

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, “অতিথি পাখি শিকার কিংবা হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করে পাখি শিকার করলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ৩৮ ধারায় (১/২) ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয় বার করলে দণ্ডের মেয়াদ দ্বিগুণ হবে। অতিথি পাখি শিকার বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ এবং সচেতনতার বাড়াতে হবে।”