• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ, ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২১, ০৭:৪৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২৮, ২০২১, ০৮:০৯ পিএম

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আগুন

কাটছে আতঙ্ক, হাসপাতালে ফিরছে রোগীরা

কাটছে আতঙ্ক, হাসপাতালে ফিরছে রোগীরা

অগ্নিকাণ্ডের পর স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের স্থানান্তর করা রোগীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিকিৎসা জন্য ফিরছেন আড়াইশ শয্যার সরকারি এ হাসপাতালে। চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ রোগীরা ফিরে আসায় সেবা দিতে একটু সমস্যা হচ্ছে। ঘটনার পর হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরোদমে হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। আর আগুনের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে কমিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে রোগীর বাড়তি চাপ ছিল। কিন্তু বুধবার অগ্নিকাণ্ডের পর অনেক রোগী চলে যান বেসরকারি হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। চালু হয়েছে হাসপাতালের প্রতিটি ইউনিট। আর বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে ফিরতে শুরু করেছে রোগীরা। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রোগীর সংখ্যাও।

পঞ্চম তলায় চিকিৎসাধীন সার্জারি ওয়ার্ডের রোগী হাফিজ বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে নিচে অবস্থান করছিলাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রাতে আবার হাসপাতলে ঢুকে পড়ি। এখন চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিচ্ছেন, মোটামুটি সুস্থ আছি।”

শিশু ওয়ার্ডে এক রোগীর অভিভাবক বলেন, “আগুনের লাগায় অন্য হাসপাতালে চলে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে আবারো সদর হাসপাতালে চলে আসি। এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক এসে রোগীকে দেখেনি। বাচ্চা খুবই কান্নাকাটি করছে।”

আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “আগুন লাগার পর রোগীকে নিয়ে একটি নিরাপদ স্থানে চলে যাই। পরে রাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হই। বৃহস্পতিবার সকালে পুণরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে আসি রোগীকে। এখন হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীর চিকিৎসা চলছে।”

হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ইমরানুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনেক রোগী হাসপাতালে ফিরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের পর যেসব রোগী ভয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চলে গিয়েছিল, তারাই হাসপাতালে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় অর্ধেকের বেশি রোগী হাসপাতালে এসেছেন। বাকি যেসব রোগী বাইরে রয়েছেন, তারাও শিগগিরই হাসপাতালে ফিরতে পারে বলে আশা করছি।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিক-উস্-ছালেহিন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত ছিল। নার্স, ডাক্তার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে জরুরি বিভাগে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। হাসপাতালে পুরোদমে চিকিৎসা সেবা চলছে। সকল ইউনিট খুলে দেওয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।”

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করে হাসপাতালের নিচ তলার পরিত্যক্ত স্টোর রুমে আগুন লাগে। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অর্ধশত রোগী আহত হন। এসময় দ্রুত আইসিইউ এবং জরুরি সেবা নিতে আসা ৬০০ রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে কর্তৃপক্ষ।