• ঢাকা
  • রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১, ২৭ চৈত্র ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১, ০৫:১৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১, ০৫:১৬ পিএম

৯০ বছর সংসার করে আবার বিয়ে!

৯০ বছর সংসার করে আবার বিয়ে!

স্বামী-স্ত্রী দুইজনই শতবর্ষী। তাদের দাম্পত্যের বয়স ৯০ বছর। দাম্পত্যের এই দীর্ঘ পরিক্রমা শেষে আবার বিয়ে করলেন তারা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘায়ু কামনায় পুনরায় বিয়ে করলেন এই প্রাচীন দম্পতি।

বিরল এ ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়। বর বৈদ্যনাথ দেবশর্মা, বয়স ১০৭ বছর। কনে পঞ্চবালা দেবশর্মা, বয়স ১০১ বছর।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের বিরলের বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বিয়ে হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর আগে। তার একমাত্র কন্যা ঝিলকো বালার ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে। প্রথম মেয়ে আদুরী রানী দেবশর্মার এক ছেলে এক মেয়ে। দ্বিতীয় মেয়ে যমুনা রানী দেবশর্মার ৩ ছেলে, তৃতীয় মেয়ে কুশলী রানী দেবশর্মার ২ মেয়ে, চতুর্থ মেয়ে পূর্ণিমা রানী দেবশর্মার এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং পঞ্চম মেয়ে লক্ষ্মী রানী দেবশর্মার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের ঘরেও আবার ছেলেমেয়ে হয়েছে। অর্থাৎ বিয়ের পাঁচ সিঁড়ি অতিক্রম করেছেন বৈদ্যনাথ দেবশর্মা। প্রচলিত আছে, যদি বিবাহের পর পঞ্চম সিঁড়ি (প্রজন্ম) উত্তীর্ণ হয় তাহলে পুনর্বিবাহের আয়োজন করতে হয়। 

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিরলের ধর্মপুর ইউনিয়নের বাড়িভর্তি মেহমানের উপস্থিতিতে পঞ্জিকা মতে বিবাহলগ্নে পুনর্বিবাহ সম্পন্ন হয় বর বৈদ্যনাথ দেবশর্মা ও কনে পঞ্চবালা দেবশর্মার। সত্যনারায়ণ পূজা, অধিবাস, বরানুগমনসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছিল বিয়েতে। আর এমন বিয়েকে ঘিরে আনন্দও কম ছিল না। 

কৃষিপেশায় নিয়োজিত বৈদ্যনাথ ১৯৭২ সাল থেকে ৮৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যও ছিলেন। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর ৮ নাতি-নাতনি হয়েছে এবং তাদের ঘরে ১৯ জন সদস্য। এখন তার পিড়ির মোট সদস্য সংখ্যা ৫৪ জন। 

এই বর ও কনের বিয়ে হয়েছিল খুব ছোট থাকা অবস্থায়, তাই এমন বিয়েতে আনন্দিত তারাও। বর বৈদ্যনাথ দেবশর্মা বলেন, “১৩ টাকা পণ দিয়ে পঞ্চবালার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আমার। ব্রিটিশদের সময়ে তখন এমন ধুমধাম ছিল না, এখন যে বিয়ে হলো এখন পর্যন্ত যে আনন্দ পাচ্ছি তা বলার মতো নয়। আমার নাতি-নাতনিরা যা করেছে তা বলার মতো নয়।”

স্ত্রী পঞ্চবালা দেবশর্মা বলেন, “আমার যখন বিয়ে হয়েছে তখন আমি কিছুই বলতে পারি না। এখন আবার নাতি-পুতিরা বিয়ে দিল। আমার স্বামী আমাকে অনেক ভালোবাসে, তাকে ছাড়া আমি থাকতে পারি না, আমাকে ছাড়াও সে থাকতে পারে না।”

এই বিয়েতে বর ও কনের সন্তান, তাদের নাতি-নাতনি মিলে ৪ প্রজন্মের আত্মীয়-স্বজনসহ অংশগ্রহণ করেন আশপাশের প্রতিবেশীরাও। আবার বৃদ্ধ-বৃদ্ধার বিয়ে বলে আনন্দের কমতি ছিল না নতুন প্রজন্মের কাছে।