• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১, ২৭ চৈত্র ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ০৪:২৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ০৪:২৯ পিএম

হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

ঝালকাঠিতে দোকানের ম্যানেজার শাহাদাৎ হোসেন (৬৫) হত্যা মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরি গ্রামের গিয়াস মল্লিক (৪৫), কিস্তাকাঠি গ্রামের শাহীন ভূঁইয়া (৩৫) ও  মির্জাপুর গ্রামের জয়নাল কাদি (৪৬)। 

ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবদুল মান্নান রসুল বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ছোহরাব হোসেন নামে একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত শাহীন ও জয়নাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। গিয়াস মল্লিক নামের আরেক আসামি পলাতক।”  

মামলার বিবরণ থেকে আবদুল মান্নান রসুল আরও বলেন, “পুরোনো বিরোধের জেরে ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল ঝালকাঠি শহরের স্টেশন রোডের একটি টিনের দোকানের ম্যানেজার শাহাদাৎ হোসেনকে নেশাজাতীয় দ্রব্য দিয়ে লঞ্চঘাট এলাকার জয়নাল কাদির বাসায় গলাকেটে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। পরে তার লাশ সুগন্ধা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। 

ওই বছরের ২৩ এপ্রিল দুপুরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় মাথাবিহীন শাহাদাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই দিন ঝালকাঠি থানার পিএসআই আবদুর রহিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জয়নাল কাদি নামের একজনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়। 

১৯৮০ সালে দেউরি গ্রামের মোকছেদ আলী মল্লিককে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ মামলায় আসামি ছিলেন শাহাদাৎ হোসেন। বাবাকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়াস মল্লিক তার সহযোগীদের নিয়ে শাহাদাৎকে হত্যা করে।

সে সময়ের ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শীল মণি চাকমা তদন্ত শেষে ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবদুল মান্নান রসুল। আসামিপক্ষে হুমায়ুন কবির বাবুল ও অ্যাডভোকেট ফয়সাল খান মামলা পরিচালনা করেন। 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। অন্যদিকে ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী।