• ঢাকা
  • রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১, ২৭ চৈত্র ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২১, ০২:১০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২, ২০২১, ০২:১২ পিএম

নারীকে পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা ছিনতাই, তিন পুলিশ আটক 

নারীকে পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা ছিনতাই,  তিন পুলিশ আটক 

কক্সবাজারে বসতবাড়িতে ঢুকে এক নারীকে পিস্তল ঠেকিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (১ মার্চ) বিকেলে শহরের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী রিয়াজ আহমদের স্ত্রী রোজিনা খাতুন এই ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর আরও দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

দ্রুত বিচার আইনে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম। 

গ্রেপ্তার তিন পুলিশ সদস্য হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) নুর হুদা ছিদ্দিকী, কনস্টেবল আমিনুল মমিন ও মামুন মোল্লা। 

ওসি মোহাম্মদ সেলিম জানান, বাদীর এজাহার মতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

সূত্র জানায়, কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার রিয়াজ আহমদের স্ত্রী রোজিনা খাতুন গ্যাসের দোকান করার জন্য তার আত্মীয়স্বজন থেকে সোমবার তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন। বিকাল ৪টার দিকে কয়েকজন পুলিশের পরিচয় দিয়ে রোজিনাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রোজিনার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এ সময় রোজিনার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে একজনকে ধরে ফেলে। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। 

পরে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সবাইকে বিষয়টি অবগত করে তদন্তে নামে। একপর্যায়ে সোমবার রাতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সাদা পোশাকধারী পুলিশের ছিনতাইয়ের শিকার রোজিনা খাতুনের স্বামী রিয়াজ আহমেদ বলেন, “কক্সবাজারের সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গ্যাসের দোকান করার জন্য আমার স্ত্রী এই টাকাগুলো তার আত্মীয়স্বজন থেকে সংগ্রহ করেন। গুরুতর অবস্থায় আমার স্ত্রীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।