• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২১, ০৯:৩২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ৭, ২০২১, ০৯:৩২ পিএম

অনিশ্চয়তায় তামান্নার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন

অনিশ্চয়তায় তামান্নার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন

কাপড় ফেরিওয়ালার মেয়ে মেডিকেলে পড়ার  সুযোগ পেলেন। গত ২ এপ্রিল (শুক্রবার) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও এক অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিন কাটছে তারজিনা আক্তার তামান্নার। 

তামান্না কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বেলদহ গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে। তামান্না এবার রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ৪ এপ্রিল (রোববার) বিকেলে ঘোষণা করা হয়, এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল। এতে তামান্না টেস্ট স্কোর ৭১.৫, মেরিট স্কোর ২৭১.৫ পেয়ে মেধা তালিকায় ২২৬৭ নম্বরে স্থান পান। তামান্না উপজেলার জয়মনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ ও ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইসএসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পান।

জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া দুই বোনের মধ্যে বড় তামান্না। দারিদ্রকে জয় করে তামান্না মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পরিবারে পাশাপাশি গ্রামবাসীর মধ্যে যেমন আনন্দের বন্যা বইছে, অন্যদিকে ভর্তি হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তামান্নার দরিদ্র বাবার কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

তারা মিয়া বলেন, “বাড়ির ভিটে টুকু ছাড়া চাষাবাদ করার মতো কোন জমি-জমা নাই। সংসার চালাতে ভ্যানগাড়িতে করে বিভিন্ন হাট-বাজারে কাপড় ফেরি করে বিক্রি করি। তা দিয়ে কোন মতে সংসার চললেও সঞ্চয় বলতে কিছু নেই।” 

তামান্নার বাবা বলেন, “মেয়ের লেখা পড়ার খরচ চালাতে আরডিআরএস নামক একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় ২ বছরের জন্য ওই এনজিওটি ২৪ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করে। বৃত্তির টাকা খরচ না করে সেই টাকা দিয়ে মেয়েকে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাই।”

তিনি আরও বলেন, “মেয়ের অনলাইনে ক্লাস করার জন্য মালয়েশিয়া প্রবাসী তার এক পরিচিত ব্যক্তি একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছে তামান্না।”

তামান্না বলেন, “মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ পেয়ে খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু ভর্তি হতে পারবো কিনা এই ভেবে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি, আমার বাবা মা তারাও খুব চিন্তায় আছে। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় আমার স্থান হলেও অভাব অনটনের সংসারের বাধা অতিক্রম করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ভুরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খালেদুজ্জামান বলেন, “মেয়েটি অসম্ভব মেধাবী। কলেজে পড়ার সময় আমরা তাকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছি। এমন এক প্রতিভা যেন দারিদ্রের কষাঘাতে হারিয়ে না যায় সে জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।”