• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২১, ১২:১১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২০, ২০২১, ১২:১৯ পিএম

লকডাউনে মিনা রানীদের স্বপ্ন পুড়ে ছাই

লকডাউনে মিনা রানীদের স্বপ্ন পুড়ে ছাই

মিনা রানী পাল। অভাবের সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তার ওপর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ। মিনা রানী এখন দিশেহারা। স্বপ্ন ছিল এবার বৈশাখে মাটির পণ্য বেচাকেনা ভালোই হবে। কিন্তু করোনার কালো থাবায় তার সব সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত বছরও করোনার থাবায় বৈশাখে ব্যবসা হয়নি। গত বছরের তৈরি করা পণ্য এখনো অবিক্রীত অবস্থায় ঘরে পড়ে রয়েছে। এবার এনজিও থেকে কিস্তি তুলে নতুন করে পণ্য তৈরি করেছেন। কিন্তু ভাগ্য বড়ই নিষ্ঠুর! এবারও করোনা স্বপ্ন কেড়ে নিল। এটা শুধু যে মৃৎশিল্পী মিনা রানী পালের, তা কিন্তু নয়। রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের পালপাড়ার প্রায় ২০টি পরিবারের। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় রূপগঞ্জের পালপাড়ার ঘরে ঘরে মৃৎশিল্প তৈরি হতো। প্রায় শতাধিক পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। কালের বিবর্তনে ও নানা জটিলতার কারণে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২০টি পরিবার বাপ-দাদার আমলের পেশা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। 

পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর করোনার কারণে সবার ঘরেই মাটির তৈরি পণ্য পড়ে রয়েছে। বছরের শুরুর দিকে মৃৎশিল্প তৈরি করা শুরু হয়। গত বছরের মার্চে করোনা শুরু হওয়ার কারণে পয়লা বৈশাখে আর মালামাল বিক্রি করা যায়নি। সবাই ঘরে এসব স্টক করে রেখেছিল। ধারণা ছিল এসব স্টক করা মালসহ নতুন তৈরি করা মালামাল এবারের বৈশাখে বিক্রি করবে। কিন্তু করোনার থাবায় এবারও সব বিফলে গেল। 

মৃৎশিল্পীরা বলেন, মৃৎশিল্পের প্রধান বাজারই হলো পয়লা বৈশাখ। এ ছাড়া মেলা-পার্বণে মোটামুটি বেচাকেনা চলে। মাঝখানে অল্পসময় মেলা-পার্বণে কিছু বিক্রি করা গেছে। এবারের বৈশাখে বিক্রি করতে পারলে অন্তত লোকসানটা কমে যেত। 

কথা হয় মৃৎশিল্পী কাজলী রানী পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, “এইভাবে আর কেমনে বাঁচুম বাপ। ভগমানে আমাগো গরিবগোই দেহে। লকডাউনে তো বড়লোকগো কিছু ক্ষতি অইবো না। ক্ষতি তো আমাগো অইতাছে। গেছে বছর ঋণ কইরা হাড়ি-পাতিল বানাইলাম। কিছু বেচবার পারি নাই করোনার লাইগ্যা। এইবারও কিস্তি তুইলা বানাইছি। অহন এইবারও করোনা। করোনায় আমাগো কফালডা খাইছে। এর চাইতে বালা (ভাল) ভগবানে নিয়া যাউগ্যা।”

অনিতা রানী পাল বলেন, “ঘরে ঘরে যে মাল পইড়া আছে, মনে অয় ২০ লাখ টেকার কম অইব না। হাঁড়ি-পাতিল না বেচবার পারলে আমরা সংসার চালামু কেমনে। লকডাউনে তো আমাগো স্বপ্ন কাইড়া নিল।” 

গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাসিরউদ্দিন বলেন, “করোনা মহামারি ভাইরাসের কারণে মৃতশিল্পীরা গত বছরও বৈশাখী মেলায় কোনো জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারেনি। এবারও মেলার শুরুতে লকডাউন। পরিবারগুলো খুবই কষ্টে আছে।” 

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ নুসরাত জাহান বলেন, “করোনা মহামারির কারণে মেলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবই বন্ধ। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা আসলে মৃতশিল্পীদের সহযোগিতা করা হবে।”