• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২১, ১২:৪৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২৯, ২০২১, ০৩:৫২ পিএম

মুনিয়া ও আনভীরের মধ্যে চ্যাটে যে কথা হয়েছিল

মুনিয়া ও আনভীরের মধ্যে চ্যাটে যে কথা হয়েছিল

একটি পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড দিয়েছিলেন মোসারাত জাহান মুনিয়া। এরপরই প্রেমিক বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে ফোনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চ্যাটে মনোমালিন্য হয় মুনিয়ার।

চ্যাটের বিষয়টি নিশ্চিত করে মুনিয়ার খালাতো ভাই মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “মুনিয়া ও আনভীরের সঙ্গে চ্যাটের স্ক্রিনশট আমাদের কাছে ছিল, আমরা তা সাংবাদিকদের দিয়েছি। এ ছাড়া গুলশানের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া মুনিয়ার ডায়েরি পাওয়া যায়। ডায়েরির লেখাগুলো গণমাধ্যমকে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছয়টি ডায়েরি গুলশান পুলিশের কাছে আছে।”

২৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, “গত ২৩ এপ্রিল একটি ইফতার পার্টি হয়, সেই বাসায় (গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাসার ফ্ল্যাট-বি-৩)। এই ইফতার পার্টির ছবি যখন ফেসবুকে আপলোড করা হয়, সেটি নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেন। মনোমালিন্যের বিষয় নিয়ে ভিকটিম তার বোনকে বলেন, যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।”

১৫ এপ্রিল মুনিয়া চ্যাটে লিখেছিলেন, “কী করলাম আমি, কেন রাগ করছো, বলো প্লিজ, এই কি তোমার প্রেম, আমার সাথেই, আমি আসবো এখন তোমার বাসায়, কিছু বলো, কী দোষ আমার বলবা তো।”

এরপর আনভীর তাদের দুইজনের কিছু ছবি পাঠিয়ে লিখেছেন—“এইগুলা কী।”

এরপর সম্প্রতি ফোনালাপে আনভীরের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুনিয়াকে কান্না করতে শোনা যায়।

আনভীরের একটি পছন্দের গান, যা তিনি কোনো একদিন আমাকে (মুনিয়া) পাঠিয়েছিলেন, আজকে তাকে পাঠিয়ে বললাম, “আমি এখনও এটি শুনি, কারণ আমি এখনও আপনাকে ভালোবাসি (ডায়েরির পাতা ১৮.০২.২০২০)।”

“আজকে আনভীরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। জানি না তবে সারাদিন তাকে নিয়ে ভাবি হয়তো তাই। এবং এটাই আমি তাকে জানাই, তিনি (আনভীর) আমাকে বললেন, তুমি আমার ভালো চাও তাই দেখ হয়তো (ডায়েরির পাতা ১৭.০৯.২০২০)।”

“বসে আমি আর আনভীরের কথা ভাবছি। তার তো অনেক কিছুই আছে জীবনে, তবে আমার জীবন এখনও সেই ব্যস্ততায় যায় নাই। আল্লাহ যা কিছু করবে আমার উত্তম। অপেক্ষায় আছি কবে তিনি দেখা করার কথা বলছেন, মিস ইউ আনভীর। (ডায়েরির পাতা ৩০.০৯.২০২০)।”

আনভীরকে নিয়ে এমন অনেক ভালোবাসা ও মান-অভিমানের কথা লেখা আছে মুনিয়ার ডায়েরিতে, যা গুলশান থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রেমের পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মুনিয়াকে গুলশানে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। মুনিয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে পরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়, এমন অভিযোগ মোসারাত জাহান মুনিয়ার পরিবারের। মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান এমনই অভিযোগে করে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং ২৭ (তাং ২৭.০৪.২০২১)।

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে মুনিয়াকে খুন করা হয় বলে তার পরিবার অভিযোগ করে। তিনি এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী (মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ছিলেন। মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মুনিয়া ছিলেন সবার ছোট। মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক ও একজন ঠিকাদার, বোন নুসরাত জাহান একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। 

বুধবার (২৮ এপ্রিল) মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান অসুস্থ থাকার কারণে তার খালাতো ভাই মো. ইকবাল হোসেন দৈনিক জাগরণকে বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় একটা পর্যন্ত বিভিন্ন নম্বর থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ইকবাল হোসেন আরও বলেন, “বিভিন্নভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলে, ছোট বোনকে দিয়ে এসব করাও, তোমাদের দেখে নিব মামলা না তুলে নিলে।” 

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিমুল আহসান বলেন, “এটা একটি জাতীয় ইস্যু, এ ব্যাপারে আমরা কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি, পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”

আরও পড়ুন