• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ জুন, ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২১, ০৩:৪৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২১, ২০২১, ০৩:৪৫ এএম

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা বাধ্যতামূলকের যুগান্তকারী নির্দেশনা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা বাধ্যতামূলকের যুগান্তকারী নির্দেশনা

দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া কার্যক্রম শুরু করার যুগান্তকারী নির্দেশ প্রদান করেছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৬টি খেলার চর্চা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের বিপথগামীতা ঠেকাতেই নেয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর খুলে দেয়ার পরই এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। 

ক্রীড়া কার্যক্রম শুরু প্রস্তুতি নিতে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ১৬ জুন এসব নির্দেশনা দিয়ে অধিদপ্তর থেকে চিঠি সব জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে পাঠানো নির্দেশনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষ অফিস ও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। 

যে সকল খেলাগুলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সেগুলো হলো- ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, টেবিল টেনিস, সাঁতার (১১টি ইভেন্ট), হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল, রাগবি, আর্চারি, তায়কোয়ানদো, কাবাডি, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক্স (৩৫টি ইভেন্ট), দাবা ও সাইক্লিং। তবে গত দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে তিনটি স্বর্ণপদক আনা কারাতে ডিসিপ্লিনকে এই তালিকায় রাখা হয়নি।   

অধিদপ্তরের নির্দেশনাগুলোয় বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুললে ক্রীড়া কার্যক্রম শুরু করার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ, ক্রীড়া কক্ষ, কমন রুম (যদি থাকে) ধুয়েমুছে, জীবাণুনাশক স্প্রে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ক্রীড়া কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিতে হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিমনেসিয়াম, খেলার মাঠ ইত্যাদিকে ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর উপযোগী করে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম চালু হলে ক্লাস শুরুর আগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে দৈনিক সমাবেশ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময়সূচি নির্ধারণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগকে জানাতে হবে। নির্দেশনায় অধিদপ্তর আরও বলেছে, জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-৪ অনুযায়ী সমিতির আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় (স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি) বাধ্যতামূলকভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন ক্রীড়া অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। এতে আরও বলা হয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, যুবদিবস, জাতীয় ক্রীড়া দিবস (৬ এপ্রিল), জাতীয় শিশু দিবসে খেলাধুলার আয়োজন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের আলাদা আলাদা কয়েকটি ইভেন্টের জন্য বিভিন্ন টিম গঠন করে তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় অধিদপ্তর বলেছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুইটি আউটডোর গেম এবং দুইটি ইনডোর গেমের জন্য টিম গঠন করবে। শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক টিম লিডারের দায়িত্ব পালন করবেন। যে প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শিক্ষক নেই সে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান একজন নির্দিষ্ট শিক্ষককে দায়িত্ব দেবেন। টিম লিডারের মোবাইল নম্বরসহ সব টিমের তালিকা শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগে প্রেরণ করতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে টিম গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট ফরম পাঠানো হবে। দাবার জন্য আলাদা টিম বা দল গঠন করতে হবে।

ফুটবল, হ্যান্ডবল, কাবাডি, ক্রিকেট বাস্কেটবল ভলিবল হকি ও রাগবি টিম গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রতিটি দলগত খেলায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী খেলোয়াড় এবং অতিরিক্ত খেলোয়াড় নিয়ে টিম গঠন করতে হবে। ছেলেমেয়েদের আলাদা টিম গঠন করতে হবে। প্রতিটি দলের অধিনায়কের নামসহ খেলোয়াড়দের নামের তালিকা পাঠাতে হবে।

ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস ও আর্চারি টিম গঠনের নির্দেশনা বলা হয়েছে, একক এবং দ্বৈত নৈপুণ্যের খেলায় টিম গঠন করতে হবে। একক ও দ্বৈত খেলোয়াড়ের নামের তালিকা পাঠাতে হবে অধিদপ্তরে। ৩৫ ইভেন্টর অ্যাথলেটিকস, ১১ ইভেন্টের সাঁতার, তায়কোয়ান্দো, সাইক্লিং টিম গঠনের একক, দ্বৈত ও দলগত টিম গঠন করতে হবে। ছেলেমেয়েদের আলাদা টিম গঠন করতে হবে। ছোট, মধ্যম ও বড় গ্রুপে বিভক্ত করে টিম গঠন করতে হবে। একক দ্বৈত ও দলগত টিমের তালিকা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। দাবা দল গঠনের বিষয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে প্রতিটি ক্লাসে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা দাবা খেলোয়াড়ের নাম পাঠাতে হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম ছেলেমেয়ে এবং নবম ও দশম শ্রেণির ছেলেমেয়ে যারা দাবা খেলায় উৎসাহী তাদের নামের তালিকা পাঠাতে হবে।

নির্দেশনার আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সারা বছরের ক্রীড়া কর্মসূচি প্রণয়ন করে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

অধিদপ্তর আরও বলছে, সারাদেশের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকদের একটা ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। এ জন্য লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এলএমএস সমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইট করে শিক্ষকদের যুক্ত করতে হবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষাদান, প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে। এছাড়াও প্রায় ৩০ হাজার শারীরিক শিক্ষার শিক্ষককে অনলাইন রিফ্রেসার কোর্স এবং বিভিন্ন খেলার কোচ হওয়ার প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে। এ বিষয়ে একটি তথ্য ফরম পাঠানো হবে। যা পূরণ করে শারীরিক শিক্ষা বিভাগে পাঠাতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কাউট দল, রোভার স্কাউট বিএনসিসি এবং গার্লসাইড দল গঠন করে নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখাতে হবে।