• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ আগস্ট, ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২১, ১২:৪০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২১, ২০২১, ০৬:৪০ এএম

বদলে যাচ্ছে বেদে জীবন 

বদলে যাচ্ছে বেদে জীবন 

এক সময় নৌকায় জীবন যাপন করলেও বর্তমানে নদীর কূল ঘেঁষে খোলা আকাশের নীচে পলিথিন আর ছেঁড়া কাপড়ের ঝুঁপড়ি বানিয়ে একটি সম্প্রদায়ের লোকজন যাযাবর জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত, এরা হল বেদে সম্প্রদায়। বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন বছরের ৬ মাস দেশের নানান প্রান্তে জীবন জীবিকার তাগিদে নৌকা নিয়ে ছুটে বেড়ায়। সাপ খেলা ও তাবিজ বিক্রি তাদের আয়ের উৎস। এ দিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে চলে বাকী ৬মাস। সময় বদলেছে, সময়ের সাথে তাদের জীবনে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এখন বেদে পল্লীতে রয়েছে সোলার, টিভি ও মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যবহার। বেদে পরিবারের ছেলে মেয়েরা ঝুঁকছে লেখাপড়ায়। বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন চায় না তাদের ছেলে মেয়েরা তাদের মত বাপ-দাদার পুরোনো পেশাকে আঁকড়ে ধরে রাখুক। 

কথা হয় সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকায় বসবাস করা বেদে সর্দার জসিমের সাথে। তিনি জানান, তাদের এই বেদে পল্লীতে ১২টি পরিবারের বাস। আয়ের প্রধান উৎস গাছগাছালির তাবিজ বিক্রি, সাপ ধরা ও সাপ খেলা দেখানো। ৬ মাসে প্রতি পরিবার তাকে অর্থাৎ সর্দারকে বকশিশ হিসেবে প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর একদিনের আয় ৫-৬ হাজার টাকা প্রদান করে। তিনি আরও জানান, এই পেশায় তারা আর থাকতে চায় না। শুধুমাত্র বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে তারা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। বর্তমান সময়ে বাচ্চারা শিক্ষিত হওয়ার কারণে তারা আর এ পেশায় থাকতে চাচ্ছে না। তাদের দলের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছে। সেই দুই বেলা বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখাচ্ছে। 

ভালুকা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুর রউফ জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তাদের এ পেশা অবশ্যই ছাড়তে হবে। কারণ বাচ্চাদের লেখাপড়ায় শিক্ষিত করলে তারা আর এ পেশায় থাকতে চাইবে না। তাদেরকে মনে রাখতে হবে, লেখাপড়ার কোন বিকল্প নেই। তাদের সন্তানদের সমাজের আট-দশটা ছেলেমেয়ের মত এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও তাদের। আর তা না হলে তারা আরো পিছিয়ে পড়বে। 

জাগরণ/এমআর