• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১, ০৫:১৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২২, ২০২১, ১১:১৪ এএম

ধ্বংসের পথে ২৩৮ বছরের ইটাকুমারী জমিদার বাড়ি

ধ্বংসের পথে ২৩৮ বছরের ইটাকুমারী জমিদার বাড়ি

আবু নাসের বাপি, রংপুর

খোলা মাঠে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। সবটাই গরু-ছাগলের চারণভূমি। সবকিছুই উন্মুক্ত। জমিদার বাড়ির দেয়াল থেকে খসে পড়ছে ইট-বালুর পলেস্তারা

ভঙ্গুর দেয়ালজুড়ে লতাপাতা বেয়ে ওঠছে। ইতিহাসের সাক্ষী ইটাকুমারী জমিদার দর্শনে যে যার মত আসছেন, দেখছেন আর ফিরে যাচ্ছেন। ফেরার পথে আক্ষেপ করছেন ধ্বংসাবশেষ দেখে।

রংপুরের পীরগাছায় থাকা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী ইটাকুমারী জমিদার বাড়িটি এখন স্মৃতিচিহ্ন হতে বসছে। বছরের পর বছর ধরে করা হয়নি কোনো সংস্কার। অথচ এই জমিদার বাড়ি থেকেই সূচনা হয়েছিল ঐতিহাসিক প্রজা বিদ্রোহের। জমিদার শিব চন্দ্র রায় নেই, কিন্তু তার জমিদার বাড়িটি সাক্ষী হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে।

অযত্ন, অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে জমিদার বাড়ি জৌলুস হারিয়েছে অনেক আগেই। এখন শুধু ধ্বংসের শেষ পরিণতি দেখার অপেক্ষা। অথচ এই জমিদার বাড়িটি যুগ যুগ ধরে প্রাচীন পুরাকীর্তির অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইটাকুমারী জমিদার বাড়ি অমূল্য প্রত্নসম্পদ। কিন্তু সরকারিভাবে সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

২৩৮ বছর আগে ইট সুড়কি গিয়ে গড়া ইটাকুমারী জমিদার বাড়িটি এখন জরাজীর্ণ। অনেক আগেই এই বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী বেহাত হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে জমিজমা। বর্তমানে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকা জমিদার বাড়ি, মন্দির ও পুকুরটি রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৮৩ সালে রংপুরের ঐতিহাসিক প্রজা বিদ্রোহ ইটাকুমারী রাজা শিবচন্দ্রের বাড়ি থেকে সংঘটিত হয়েছিল। কালের সাক্ষী রাজা শিবচন্দ্র এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। ১৭৮৩ সালে বৃটিশ বিরোধী শিব চন্দ্র ও দেবী চৌধুরানী প্রজা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে দেবী সিংহের অত্যাচার থেকে কৃষক প্রজাদের রক্ষা করেছিলেন। ইটাকুমারী জমিদার বাড়ি ছিল তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার দ্বিতীয় নবদ্বীপ। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বাতিঘর হিসেবে ইটাকুমারীর খ্যাতি গোটা ভারতবর্ষে  ছড়িয়ে পড়েছিল। এখানে রাজা শিবচন্দ্রের নামে স্বনামধন্য একটি কলেজ রয়েছে।

স্থানীয় ইটাকুমারী শিবচন্দ্র রায় কলেজের শিক্ষার্থী মেনহাজ বাবু বলেন, জমিদার বাড়ির সংস্কার কাজ করতে কখনো দেখিনি। কিন্তু বহুবার শুনেছি এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে জমিদার বাড়িটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তারপরও জমিদার বাড়িটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ও পর্যটক আসেন। এটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা উচিত।

স্কুলশিক্ষক আমিনুল ইসলাম জুয়েল  বলেন, ঐতিহ্যময় পীরগাছা ইতিহাসের জন্য সমৃদ্ধ। কিন্তু আজও এখানে কোনো পর্যটন এলাকা গড়ে ওঠেনি। ইটাকুমারী জমিদার বাড়ি, মন্হনা জমিদার বাড়ি, দেবী চৌধুরানীর পুকুরসহ ঐতিহাসিক অনেক স্থাপনা রয়েছে। কিন্তু এসব স্থাপনার সংরক্ষণ করা হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ চাইলে ইটাকুমারী জমিদার বাড়িটি গ্রহণ করে সুরক্ষার উদ্যোগ নিতে পারেন। টিকেট বিক্রির মাধ্যমে প্রজা বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এই বাড়িটি দেখার ব্যবস্থা করার সম্ভব। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে, সঙ্গে জমিদার বাড়িটি এখানকার মানুষের জন্য বড় নিদর্শন হবে।

এ ব্যাপারে রংপুর জাদুঘর ও তাজহাট জমিদার বাড়ির কাস্টোডিয়ান হাসিবুল হাসান সুমি  জানান, প্রাচীন ওই জমিদার বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাভুক্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত সংস্কার ও সংরক্ষণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে আমরা ঐতিহাসিক এ নির্দশন সংরক্ষণে অধিদফতরকে জানিয়েছি।

আরও পড়ুন