• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২১, ০৩:২৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৩, ২০২১, ০৯:২৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত শ্যামনগর পৌরসভা 

চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় সাতক্ষীরাবাসী 

চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় সাতক্ষীরাবাসী 

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি শ্যামনগর পৌরসভা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সর্বশেষ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকারে) উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভা চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে এ প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে গোটা জেলাবাসী। 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় ও দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা শ্যামনগরকে পৌরসভা ঘোষণার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে শ্যামনগর উপজেলাধীন সদর ইউনিয়ন, পার্শ্ববর্তী ভুরুলিয়া ইউনিয়নের আংশিক এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম সহ ৩২টি এলাকাকে শহর ঘোষণার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।  এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর শ্যামনগরকে পৌরসভা ঘোষণার বিষয়টি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার দিকে  ধাবিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।  

গত ২০২০ সালের  ২১ এপ্রিল প্রকাশিত গেজেটে শহর এলাকা ঘোষণার তালিকা নিয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে তা গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে লিখিতভাবে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
 
গেজেটে শ্যামনগর সদর  ইউনিয়নের বাদঘাটা, কুলখালি, গোপালপুর, মাহমুদপুর, ইসমাইলপুর, খাগড়াদানা, নকিপুর মাজাট, হায়বাতপুর, শ্যামনগর, চন্ডিপুর, দাদপুর, পাটনীপুকুর, ফুলবাড়ী, দেবীপুর, কাশিপুর, শিবপুর, সোয়ালিয়া, চিংড়িখালি, কল্যাণপুর, যাদবপুর, ১নং ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড়, কাচড়াহাটী, নন্দিগ্রাম, সোনামুগারী, ভুরুলিয়া, দেউলদিয়া, বল্লভপুর, ব্রহ্মশাসন, কুলটুকারী, বিষ্ণুপুর, হাটছালা, মঠবাড়ী গৌরীপুর এবং ৮ নম্বর ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গুমানতলী মৌজাকে শহর ঘোষণার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কোন আপত্তি না থাকায় শ্যামনগর পৌরসভা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সচিব কমিটির সভায় অনুমোদন হয়। গত বছরের ১৯ নভেম্বরে সচিব কমিটির নিয়মিত সভায় এ সংক্রান্ত বিষয়টির অনুমোদন হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জুলফিকার আল মেহেদী লিটন বলেন, শ্যামনগর পৌরসভা বিল পাশ হলে সাতক্ষীরার তৃতীয় পৌরসভা হিসেবে শ্যামনগর পরিচিতি পাবে।  শ্যামনগর উপজেলাটি ১৯৬৮.২৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট। যার মূল ভূখন্ড ৪৮৩.১১বর্গ কিলোমিটার এবং সুন্দরবন ১৪৮৫.১৩ বর্গ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত পৌরসভার আয়তন ৫.৮ বর্গকিলোমিটার।

শ্যামনগরের বীরমুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম জানান, আইলা-দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে ২০১০ সালের ২৩ জুলাই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা সদরের নকিপুর হরিচরণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি শ্যামনগর সদরকে পৌরসভা, শ্যামনগর মহসীন ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণ, সুন্দরবন-নাভারণ রেললাইন নির্মাণ, সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক, সুন্দরবন পর্যটন কেন্দ্র, জলাবদ্ধতা নিরসনে কপোতাক্ষ নদসহ সব নদ-নদী খনন, ভোমরা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তর, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে কয়েকটির বাস্তবায়ন হলেও বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রসঙ্গত, শ্যামনগর সদরকে এর আগে ২০০১ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান শ্যামনগরে এসে পৌরসভা করার ঘোষণা দেন। শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে কলেজ  মসজিদের পাশে তিনি পৌরসভা ঘোষণার নাম ফলকও স্থাপন করেন। নানান কারণে শ্যামনগর পৌরসভা বাস্তবায়নের কাজটি আটকে যায়। সব প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভা বাস্তবায়নের ফাইলটি নিকারের সভায় প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শ্যামনগর পৌরসভার চূড়ান্ত অনুমোদন তিনি নিজেই দেবেন এই প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে সাতক্ষীরাবাসী।