• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২১, ০৫:২৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৪, ২০২১, ১১:২৭ এএম

ভ্যান বন্ধ হলে খাবো কি?

ভ্যান বন্ধ হলে খাবো কি?

মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, পার্বতীপুর

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দুই হাজার পরিবারের সংসার চলে রিক্সা-ভ্যান (ব্যাটারিচালিত অটো) চালিয়ে। বর্তমানে এই রিক্সা-ভ্যান মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোড়ে মোড়ে অলিগলি ও সড়কে চলতে দেখা যায়। পরিবেশ বান্ধব, শব্দ নেই, ভাড়া কম, সময় অপচয় হয় না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে এই রিক্সা-ভ্যান মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। সারা দেশের শহর ও গ্রামে বিভিন্ন এলাকায় রিক্সা-ভ্যানের দেখা মেলে কাঁচা কিংবা পাকা সড়কে। 

৪৫ বছর ধরে চালাচ্ছেন রিক্সা-ভ্যান। কথা হয় বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে পার্বতীপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সড়কে রিক্সা-ভ্যান চালক সামছুল হকের (৭২) সাথে। 

তিনি বলেন, নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিস্তিতে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ভ্যান কিনে সংসারের হাল ধরেন। প্রতিদিন খরচ বাদ দিয়ে ভ্যান চালিয়ে প্রায় ৩-৪ শ' টাকা আয় করেন তিনি। এ দিয়েই টুকটাক চলছে তার সংসার। প্রতি সপ্তাহে তাকে কিস্তি দিতে হয় ৮৫০ টাকা। তার পরিবারে দুই মেয়ে দুই ছেলের বিয়ে হওয়ায় তারা সবাই আলাদা। বৃদ্ধ সামছুল হক (৭২) বলেন, রিক্সা-ভ্যান বন্ধ হলে খাবো কি? আমার পরিবারের দায়িত্ব কে নিবে? পরিবারের একমাত্র ভরসা এই রিক্সা-ভ্যান। 

পার্বতীপুর ডিগ্রী কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম জানায়, পড়াশোনা করা ইচ্ছা তার এখনো আছে। অসুস্থ্য পিতা-মাতার অভাবের সংসার লেখাপড়ার খরচ তাকে চালাতে হয়। নেই কোন ভিটে মাটি। তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছার কথা জানায়, রিকশা চালিয়ে টাকা জমিয়ে একটু জমি কিনে তাতে ঘর করে দিবে তার বাবা-মাকে। কিন্তু রিক্সা-ভ্যান বন্ধ হলে আজিজুলের সোনালী স্বপ্ন তার দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিবে। শুধু আজিজুল হকেই নয় এরকম অনেকেই রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে সংসারের দায়িত্ব কাধে নিয়ে চলছে। 

গত ২২ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করে উদ্ভুত সমস্যা নিরসনকল্পে করোনায় একের পর এক জেলা লক ডাউনের আওতায় সংকটজনক সময়ে ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান চলাচল নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাশিদ কায়সার রিয়াদ বরাবার একটি আবেদন করেছেন- পার্বতীপুর রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও শ্রমিকদের নেতা আমজাদ হোসেন। 

পার্বতীপুর রিক্সাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান- গত ২ বৎসর যাবত কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ বিস্তারে বিভিন্ন গামেন্টস ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেকার শ্রমিকেরা গ্রামে এসে রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করছে। পার্বতীপুরে দুই হাজার রিক্সা-ভ্যান চালক ও তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো। অনেকেই নিজস্ব শেষ সম্বল বিক্রি করে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ গ্রহন করে রিক্সাভ্যান কিনেছেন।