• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮
প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২১, ১২:৩২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ২৭, ২০২১, ০৬:৩২ এএম

সুনামগঞ্জে বাড়ছে জ্বরের রোগী, করোনা পরীক্ষায় নেই আগ্রহ

সুনামগঞ্জে বাড়ছে জ্বরের রোগী, করোনা পরীক্ষায় নেই আগ্রহ

হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জে দিন দিন বেড়েই চলছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। হাওরবেষ্টিত জেলা হওয়ায় জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। যার ফলে নমুনা টেস্টসহ করোনার টিকায় নেই আগ্রহ।

বর্তমান সময়ে হাওরে পানিতে টুইটুম্বুর হওয়ায় জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, শাল্লা, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, ছাতকসহ প্রতিটি উপজেলায় বাড়ছে ঘরে ঘরে জ্বরের সাথে স্বর্দি-কাশিসহ করোনার উপসর্গ । তবে এসব উপসর্গকে কেবল সিজনাল জ্বর বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন হাওরাঞ্চলের বাসিন্দারা। এজন্য যে যার মত করে নিচ্ছেন ফার্মেসী চিকিৎসা।  ফলে হাওরে নীরব ঘাতকের ভূমিকা পালন করছে করোনা। স্বাস্থ্যবিধির বালাই না থাকায় একদিকে করোনা আতঙ্ক অন্যদিকে হাসপাতাল বিমুখ থাকার কারণে জানা সম্ভব হচ্ছে না করোনার বাস্তব ভয়াবহ পরিস্থিতি আসলে কতটুকু। ফলে করোনা ঝুঁকির পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে।

বিশেজ্ঞদের মতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে গিয়ে করোনার সচেতনতা বৃদ্ধি করে নমুনা সংগ্রহ করা সহ টিকায় আগ্রহ বাড়াতে হবে। তা না হলে বড় ধরনের খেসারত গুনতে হতে পারে।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০৬ জন নতুন রোগী করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন আরও ৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছেন ৪৭ জন। গত ১ জুন থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১০৭৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। 

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, টিকার জন্য অনলাইনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৯৪,২২৯জন। তার মধ্যে ৬১,৭৯০ কোভ্যাক্সিনের এবং সিনফোর্মের ১৮,৪৩৩ জনকে ১ম ডোজ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ২য় ডোজের জন্য ৪০,৭৪৯জন কে কোভ্যাক্সিনের টিকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বুধবার জেলায় আরও ৪০হাজার টিকা আসার কথা রয়েছে।

মানুষের মধ্যে করোনার আতঙ্ক থাকলেও জ্বরে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই করোনা পরীক্ষা ও হাসপাতালে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে। যারা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে, তারাও আবার করোনা পরীক্ষা করতে খুব একটা আগ্রহী নয়।

সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালে দিন দিন ভিড় বাড়ছে জ্বর স্বর্দি কাশির রোগীর। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই শহরের আশে পাশের বাসিন্দা। তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ৭-৮দিন  যাবৎ জ্বর, স্বর্দি কাশিতে ভোগছিলেন । প্রথমে সিজনাল জ্বর মনে করে ফার্মেসী থেকে চিকিৎসা নেয়ার পর কোন পরিবর্তন না দেখে হাসপাতালে আসছেন করোনা টেস্ট করাতে।

যাদের বাড়ি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা কতটুকু সচেতন! এনিয়ে হাসপাতালে আসা সুমন মিয়ার সাথে আলাপ করে জানা যায়, ৭-৮দিন যাবৎ তাদের পরিবারের সবাই জ্বরে আক্রান্ত। সিজনাল জ্বর মনে করে গ্রামে অবাধে ঘুরাফেরা করেছেন। ফার্মেসী থেকে ওষুধ খেয়েছেন। ভয়ে তারা হাসপাতালে আসেন নি। ডাক্তার যদি করোনা বলে তাই। কিন্তু শেষে উপায় না পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসে নমুনা পরিক্ষায় দিয়েছেন। এখন তিনি ভয়ে আছেন করোনা রিপোর্ট যদি পজেটিভ আসে তাহলে যাদের সাথে ঘুরছেন তাদের কি হবে।

এদিকে, জেলার ১১ উপজেলায় করোনার প্রাদুর্ভাব থাকলেও আশঙ্কাজনক হারে সংক্রমিত হচ্ছে সদর উপজেলা। আর এই সংক্রমণের তালিকায় রয়েছে সাংবাদিক, ৬ চিকৎসকসহ ৪ নার্সের নাম।আক্রান্ত ৬ চিকিৎক মধ্যে তাঁদের মধ্যে চারজনই সুনামগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক। তাঁদের গত এক সপ্তাহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে এক নার্স ছাড়া অন্যরা বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাসপাতাল গুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রোগী। আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে সকল স্তরে সাবধানতা অবলম্বন না করলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। এজন্য সিজনাল জ্বর কে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। সিজনাল জ্বরে করোনার ঝুঁকি বেশী। জ্বর হলে শরীর দুর্বল হয়। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এজন্য সিজনাল জ্বরকে হেলা করে দেখার সুযোগ নেই।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা দেড় বছর প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশাবাদী মানুষের মধ্যে নমুনা টেস্ট এবং টিকা নেয়ার আগ্রহ বাড়বে।  করোনার এই ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কেনো বিকল্প নেই। 

জাগরণ/এমআর