• ঢাকা
  • রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২১, ০১:৪৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ৩, ২০২১, ০৭:৪৯ এএম

কষ্টে মুচি সম্প্রদায় 

কষ্টে মুচি সম্প্রদায় 

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে চলমান কঠোর লকডাউনে বিপাকে আছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। নিম্ন আয়ের মানুষের আয় কমে গেছে। অনেকেই এখন ঘরে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। এতে বিপদে পড়েছেন মুচি সম্প্রদায়। 

কঠোর লকডাউনে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে নবাবগঞ্জের মুচি সম্প্রদায়ের জন্য। সরকার তো ভালোর লিগা লকডাউন দিছে। আমাগো তো খাইবার নাই। কাম কাইজ কম। পোলাপান নিয়া ক্যামনে চলুম। কেউ তো আমাগো একটু সাহাইজ্যও করে না। এক সুমায় তো দিনে ৪০০ ট্যাহা কামাইতাম। এহন তো ১০০ ট্যাহার কামও অয় না। পুলিশ আইলে দইরাইয়া পালান লাগে। এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথাগুলো বলছিলেন বাদল দাস।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল গ্রামের বাদল দাস। ৩২ বছর ধরে জুতা সেলাই কাজ করেন তিনি। স্কুলে পড়াশোনা করেন নাই। বাপ দাদার পেশা ছিল জুতা সেলাই করা। দুই যুগেরও বেশি সময় আগে এ পেশার সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একসময় কোনরকমে জীবনযাপন করলেও করোনার কারণে আর আগের মতো রোজগাড় নেই। এতে বিপাকে পড়েছেন তিনি। তার মতো অনেকেই এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। আয় কমে যাওয়ায় দুর্দিনে থাকলেও নেই তেমন কোন সরকারি বেসরকারি সহায়তা।

পরিমল দাস বলেন, বাপ দাদার পেশা হিসেবে নিজেও জুতা সেলাই কাজ শুরু করেন এক যুগ আগে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ রেখেছেন। কয়েকদিন যাবৎ দোকান খুলেছেন। তবে পুলিশের টহল দেওয়ার কারণে দুপুরেই দোকান বন্ধ করে দিতে হয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা চার জন। অভাব অনটনে এখন দিন কাটাচ্ছেন। এক সময় ৩০০/৪০০ টাকা আয় করতেন এই কাজ করে। লকডাউনের কারণে এখন ২০০ টাকা আয় করাও সম্ভব না।

রতন দাস। বসবাস ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল মণিপাড়া গ্রামে। ১৫ বছর ধরে জুতা সেলাই করে চলে তার সংসার। চলমান কঠোর লকডাউনে মানবেতর জীবপন যাপন করেছেন পরিবার নিয়ে। তেমন কোনো সহায়তাও মেলেনি। এতে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। 

জাগরণ/এমআর