• ঢাকা
  • রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২১, ০৪:২৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ৩, ২০২১, ১০:২৬ এএম

বিবেকের তাগিদে ‘বিবেক’র সৃষ্টি

বিবেকের তাগিদে ‘বিবেক’র সৃষ্টি

সাকলাইন যোবায়ের, কুমিল্লা

কুমিল্লার ১৭ উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যাক্তিদের দাফন কার্য সম্পন্ন করতে ছুটে গেছে ‘বিবেক’। গত বছরের শুরু থেকে যখন করোনার মৃত ব্যাক্তিদের কাফন ও দাফনের কাজে নিজ পরিবারের সদস্য আত্মীয়-স্বজনরা লাশ ফেলে পালিয়ে যেত ঠিক তখন কুমিল্লায় বিবেকের তাগিদ থেকে বিবেক প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন ইউসুফ মোল্লা টিপু। তার নেতৃত্বে ১১ জন নিয়ে গঠিত হয় বিবেক।

কুমিল্লার শহর থেকে শুরু করে জেলার ১৭ উপজেলার যে কোন গহিন গ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মৃত ব্যাক্তি মুসলিম,হিন্দু,বৌদ্ধ এবং খৃষ্টান যে সম্প্রদায়েরই হোক না কেন বিবেক তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ ধর্মের নিয়ম-নীতি অনুসারে সৎকার করা হয়েছে।

বিবেক এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, গত বছরের ১৮ ই মে বিবেক ১১ জন নিয়ে টিম প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩ ই আগষ্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৫০ জনের অধিক মৃত ব্যাক্তির লাশ সৎকার করা হয়েছে বিবেক টিমে এখন ৫০ জনের মত সদস্য রয়েছে। ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, আমরা গুরুতর অসুস্থ্য রোগীদেরকে অ∙িজেন সিলিন্ডার সেবা ও অসহায়দেরকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে হচ্ছে বিবেক এর পক্ষ থেকে। আমরা এসকল কাজ গুলি করে থাকি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে। বিবেক প্রতিষ্ঠার সময় বিবেক প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ পরিবারের অনুমতি নিয়ে এ কাজে এগিয়ে আসেন। জেলা সাস্থ্য বিভাগ,জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করি। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মীর মোবারক হোসাইন বলেন,করোনাকালিন দূর্যোগের সময় যখন করোনায় মৃত ব্যাক্তিদের সৎকারে যখন নিজেদের পরিবারের লোকজন লাশ ফেলে রেখে চলে যেত তখন বিবেক এগিয়ে আসছে এখন পর্যন্ত কুমিল্লায় বিবেক এর কাজ প্রশংসনীয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোঃ মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, উপেক্ষা করে যখন কোন ব্যাক্তি কোরনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান তখনি বিবেক কুমিল্লার যে প্রান্তেই হোক না কেন ছুটি যেয়ে মৃত ব্যাক্তির লাশ সৎকার করে। এমনকি ঈদের দিনেও বিবেক এর সদস্যগণ একাধিক মৃতদেহ সৎকার করেছেন।

বিবেক এর নামকরণ প্রসঙ্গে বিবেক টিম এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইউসুফ মোল্লা টিপু বলে,করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেহ মারা গেলে পূত্র তার পিতার লাশ পিতা তার পূত্রের লাশ দাফন করতে এগিয়ে আসতো না তখন এসকল মর্মান্তিক ঘটনা থেকে নিজের বিবেকের তাগিদে বিবেক প্রতিষ্ঠা করার উপলদ্ধি বোধ করি। বাংলাদেশে করোনার শুরু থেকে এখ নপর্যন্ত বিবেক এর সকল সদস্যগণ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।