• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১, ১০:৫৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১, ১০:৫৯ পিএম

স্মরণসভা

‘তিনি ছিলেন বহু রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক জনক’

‘তিনি ছিলেন বহু রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক জনক’
আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ ● জাগরণ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি বলেছেন, আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী একজন দেশ দরদী রাজনীতিবিদ, দেশ ও জাতির জন্য তিনি আজীবন কাজ করেছেন। তিনি একজন পরিচ্ছন্ন, ত্যাগী রাজনীতিবিদ। রাজনীতিতে সাধারণ নেতা-কর্মীদের সাথে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তিনি অনেক রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক জনক। তিনি বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে আজীবন ফকা চৌধুরী গোষ্ঠীর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজনীতি করেছেন। একজন অকুতোভয় নিবেদিত প্রাণ, প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ ছিলেন।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু হলে মুজিব নগর সরকারের ১ নং প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, সাবেক গণপরিষদ সদস্য, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নিযুক্ত চট্টগ্রাম জেলা বাকশালের সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ভাষা সৈনিক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রাক্তন নেতা আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী’র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি একথা বলেন।

মোসলেম উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগে আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরীদের ভূমিকা অপরীসীম। রাজনীতিতে এখন যে দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে তা থেকে যদি আমরা উত্তরণের পথ খুঁজি তাহলে এই প্রজন্মের কাছে আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরীদের মতো রাজনীতিবিদের অবদান তুলে ধরতে হবে। তাদের জানাতে হবে, জনগণকে কিছু দেয়ার জন্য রাজনীতি, কেড়ে নেয়ার জন্য নয়। 

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতি আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল, অত্যন্ত দীন-দরিদ্র এবং অখ্যাতজনকেও মূল্য দিতেন তিনি। তিনি শুধু দীর্ঘ দেহে নয় মনেও অসাধারণ ছিলেন। বিষাক্ত সমাজ জীবনের ছোবল বা লোভার্ত কালিমা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, ‘মানুষের কাছে সাধারণ রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের একটা আদর্শ মূর্তি থাকে। সাধারণত প্রাত্যহিক জীবনে আমরা অধুনা যেসব রাজনীতিবিদদের দেখি, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই আদর্শ মূর্তির ধারে কাছেও যান না। আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী এই বিরাজমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ছিলেন অতি-ব্যতিক্ষমী এক ব্যক্তিত্ব।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু, দেশ ও জনগণের স্বার্থে ৭১ এর নির্বাচনে কিছু বাস্তব ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারা নির্বাচিত হয়ে বিশ্বস্ততার সাথে দলের জন্য অশেষ অবদান রেখেছেন, সফল হয়েছেন, আওয়ামী রাজনীতিকে পরিপূর্ণতা এনেছেন। জনমনে তারা অমর হয়ে রয়েছেন, আবদুল্লাহ আল হারুন তাদেরই একজন। আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী তাঁর কর্মের মাঝে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি সবাইকে নিয়ে করতে হয়। রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম না থাকলে, সাধারণ মানুষের প্রতি দরদ না থাকলে, লোভ পরিহার করতে না পারলে রাজনীতি হয়না। আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী সেই শিক্ষা আমাদের দিয়ে গেছেন।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বলেন, লোভকে সম্বরণ করতে পেরেছিলেন তিনি। নানা সময়ে নানা দল থেকে সরকারি উচ্চ আসনের অনেক অফার পেয়েও তিনি তা নির্মোহ মানুষের মতো এড়িয়ে যেতে পেরেছেন। বৈভবহীন গৌরবের প্রতি তার এ আকর্ষণ আজকের সমাজে বিরল। তিনি বিভিন্ন সংগ্রামে সাধারণ মানুষের সাথে ছিলেন। তিনি নিজেকে বিতর্কের উর্দ্ধে রাখতে পেরেছিলেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, সাবেক এম পি সাবিহা মুছা, সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়ব, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কালাম চৌধুরী, উত্তর জেলার সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আবুল কাশেম চিশতি, মহানগর আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক  জহির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোছলেহ উদ্দিন মনসুর, আইন বিষয়ক সম্পাদক  মির্জা কছির উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, দফতর সম্পাদক আবু জাফর, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: তিমির বরণ চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন সাবেরী, নাজিম উদ্দিন তালুকদার, আ স ম ইয়াছিন মাহমুদ, মহিউদ্দিন মঞ্জু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য চেয়ারম্যান নাছির আহমদ, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, মাহবুবুর রহমান শিবলী, এ কে আজাদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও মরহুমের সন্তান শামীমা হারুন লুবনা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জোবায়ের, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী কল্পনা লালা, রেহেনা ফেরদৌস চৌধুরী, জান্নাত আরা মঞ্জু, কাজী শারমিন সুমী, পাপড়ী সুলতানা, খালেদা আক্তার চৌধুরী, জীবন আরা বেগম, তাহমিনা আকতার চৌধুরী, চুমকী চৌধুরী হানিফ, শামী আরা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, কৃষ্ণারানী দাশ, জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন সহ আরও অনেকে। 

জাগরণ/এসএসকে