• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১, ০৪:৫২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১, ০৪:৫৬ পিএম

অভিনব প্রতারণার ফাঁদ

মাহবুব দিলে ৩ লাখ, হয়ে যায় ৩০ লাখ!

মাহবুব দিলে ৩ লাখ, হয়ে যায় ৩০ লাখ!
ছবি- দৈনিক জাগরণ

মোহাম্মদ আলী II চট্টগ্রাম

নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ব্যবসায়ী শেখ মো. জসিম উদ্দিন মনছুরী তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য সেভেন স্টার গ্রুপ নামে ক্লাব থেকে ছড়া সুদে ৩ লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ক্লাবের হর্তাকর্তা ছিলেন সরাইপাড়ার লাকী হোটেল গলির আব্বাস আলীর সন্তান মাহবুব আলী। ৭ মাসে তিনি সুদ হিসেবে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নেন।

২০১৯ সালের ১৫ আগষ্ট জসিম উদ্দিনের কাছে ৩০ লাখ টাকা পাবেন বলে উকিল নোটিশ আসে আদালত থেকে। তিনি পরে আদালতে গিয়ে জানতে পারেন দুটি চেকে মাহবুব আলীর নামে ২০ লক্ষ ও ৩০ লক্ষ টাকা জামানত হিসেবে দিয়েছেন। এতে হতভম্ব হয়ে যায় জসিম উদ্দিন। জসিম উদ্দিন মনছুরী বলেন, ঋণ নিয়েছি ৩ লাখ টাকা। হয়ে গেল ৩০ লাখ টাকা। চেক প্রতারণার মাধ্যমে মাহবুব আলী আমি নয়, অন্তত ২০ জনের কাছ থেকে এমন প্রতারণা করেছেন।

শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের মোমিন রোড়স্থ একটি রেস্তুুরায় এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মো. জসিম উদ্দিন মনছুরী এমন অভিযোগ করেন। এসময় মাহবুবের প্রতারণার শিকার অন্তত ২০জন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগি আসাদুল ইসলাম বলেন- মো. মাহবুব আলী  হাজী আশ্রাফ আলী রোডে সরকারী অনুমোদন বিহীন সেভেন স্টার ক্লাব ও সেভেন স্টার গ্রুপ নামীয় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ঋণ প্রদান কার্যক্রম ও রাতে জুয়া (কেসিনো) ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সেভেন স্টার গ্রুপ সমিতির অসহায় বিপদগ্রস্ত লোকদেরকে স্বল্প সংখ্যক ঋণ দিয়ে তার বিপরীতে গ্রাহকের স্বাক্ষরিত জামানত স্বরূপ একাধিক অলিখিত চেক ও খালি স্ট্যাম্প জমা নিয়ে সুদসহ সমুদয় টাকা আদায় করে আসছে। পরবর্তীতে ঋণগ্রস্ত অসহায় গ্রাহকদেরকে মাস্তান লেলিয়ে দিয়ে বাড়িঘর জবর দখল করে। নিরীহ গ্রাহকদের স্বাক্ষরিত চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে আদালতের প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় চেকে মোটা অংকের টাকা লিখে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রাহকদের আইনের প্যাঁচে ফেলে আপোষের প্রস্তাব দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে। যেই সব অসহায় লোকেরা প্রতারক চক্রের দাবিকৃত টাকা দিতে পারে না তাদেরকে সাজা ও জরিমানা করাইয়া এলাকা ছাড়া করে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে, তাহারা সামাজিক ও ওয়ার্ড কমিশনারের বিচার সালিশও মানে না। উক্ত প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিলে প্রতারক চক্রের হোতা মাহবুব আলী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে অসহায় বাদীর মামলা খারিজ করাইয়া দেয়। এমনকি তারা স্থানীয় দুর্নীতিবাজ প্রশাসন, নেতা, মাস্তান ও আদালতের প্রতারক শ্রেণির যৌথ প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে সিন্ডিকেট গঠন করে। মিথ্যা চেকের মামলা দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে ত্রিশ লক্ষ টাকা আদায়, জমি ও দোকান দখল করে। তাদের দাবীকৃত টাকা না দিলে ফেরারী ও সর্বস্বান্ত করে।    

সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগিরা বলেন, মামলাবাজ মাহাবুব আলী তার সেভেন স্টার গ্রুপ নামীয় প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহীতাদের বিপরীতে মূল টাকা আদায়ের পর বিগত ২০১৬ইং হইতে ২০২১ইং সাল পর্যন্ত ক্ষুদ্র অসহায় ঋণ গ্রহকদের জিম্মা নেওয়া চেক সমূহে ইচ্ছা মতো টাকার সংখ্যা লিখে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে ও সময়ে নিরীহ গ্রহকদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি, টাকা, জমি, বাড়ি-ঘর কুক্ষিগত করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম সেভেন স্টার ক্লাব থেকে ঋণ নিয়েছেন ৩ লাখ , তবে তার চেকে পরে লেখা হয়েছে ৩০ লাখ, সালাউদ্দিন খোকন ঋণ নিয়েছেন ২ লাখ, তার বিরুদ্ধে চেক ডিসঅনার মামলা করা হয়েছে ৩০ লাখের। একইভাবে সাদেক আলী টুটুল ঋণ নিয়েছেন ২ লাখ, অথচ তার বিরুদ্ধে চেক ডিসঅনার মামলা হয়েছে ৩০ লাখ টাকার। স্থানীয় সালাউদ্দিন খোকনের দোকান চুরির সময় চেক বইও চুরি হয়। ওই চেকের বিষয়ে থানায় তিনি একটা জিডিও করেন। এর কয়েক মাস যেতে না যেতেই মাহবুব আলী তার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চেক ডিসঅনার মামলা করে। মাহবুব আলীর সাথে ক্লাবে গিয়ে চেক চুরির স্বীকার হন মো.আব্দুর কুদ্দুস মজুমদার।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় জিডি করি। অথচ ওই চুরি যাওয়া চেকগুলো দিয়ে মাহবুব আলী আমার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার চেক ডিসঅনার মামলা দায়ের করে। মামলাটি পিবিআই-তে তদন্তাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মাহাবুব আলী অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের পূর্বক হয়রানি ও টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। এই প্রতারকের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার ও প্রতিবাদ করার সাহস রাখে না।

প্রতারিত নিরীহ ভুক্তভোগিরা প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহামান্য হাইকোর্ট তথা আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবিদের সহায়তা ও সহযোগিতা কামনা করে প্রতারক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।  

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ মজুমদার, মো. সালাউদ্দিন খোকন, মো. সাদেক আলী টুটুল, মো. লোকমান, জসিম উদ্দিন মনছুরী, আরো উপস্থিত ছিলেন ২৪নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ জাকারিয়া, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

এসকে