• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ০৩:৫৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ০৪:০১ পিএম

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি

বক্তব্য প্রত্যাহার, নয় ডিসির বিরুদ্ধে মামলা

বক্তব্য প্রত্যাহার, নয় ডিসির বিরুদ্ধে মামলা
ছবি- দৈনিক জাগরণ

মোহাম্মদ আলী || চট্টগ্রাম

আইনজীবী সমিতি নিয়ে জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন মন্তব্য মিথ্যাচার ও নীতিবহির্ভূত উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন, আমরা বৈধভাবে দলিলমূলে আছি। পরীর পাহাড়ে আইনজীবী সমিতির বিদ্যমান পাঁচটি ভবনও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। 

সমিতির ভবনসমূহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুদানে এবং সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত। এছাড়া ভবনগুলো সিডিএ কর্তৃক অনুমোদিত। এসব ভবন নির্মাণের সময় কোনও পাহাড় বা টিলা কাটা হয়নি। কিন্তু ডিসি বরিশালের মতো চট্টগ্রামে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে আসল তথ্য লুকিয়ে মন্ত্রানালয়কে মিসগাইড করেছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে জেলা আইনজীবী সমিতির নামে ডিসি (জেলা প্রশাসক) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, আইনজীবী সমিতির ভবনসমূহ যথাযথভাবে অনুমোদিত নয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ। পরীর পাহাড় এলাকায় সিডিএ কোনও ভবনের অনুমোদন দেওয়ার পূর্বে যেন জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নেওয়া হয়। গণমাধ্যমে দেওয়া ডিসির এমন বক্তব্য তার এখতিয়ার বহির্ভূত বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যে লালিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মান, মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসনের এহেন ঘৃণিত প্রয়াস দুঃখজনক। এছাড়া পানি সংযোগ, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন বিভিন্ন দফতরে পত্র প্রেরণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন যাতে নির্মাণ হতে না পারে, সেজন্যই জেলা প্রশাসন থেকে এমন ন্যাক্কারজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে আইনজীবী সমাজ অবস্থান নেবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির স্থাপনাসমূহকে উদ্দেশ্য করে জেলা প্রশাসন কর্তৃক গত ২ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। অথচ কোর্ট বিল্ডিং এর চারপাশে সমিতির কোনও অবৈধ স্থাপনা নাই। কোনও ছাত্রাবাসও নাই।

দোকানপাট, খাবার হোটেল, মুদি দোকান, বস্তি ইত্যাদি স্থাপনা জেলা প্রশাসন কর্তৃক লিজ প্রদানকৃত জায়গায়। আবার কিছু অংশ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারি কর্তৃক অবৈধভাবে ভাড়ায় লাগানো হয়েছে। যা থেকে তারা মাসিক ও দৈনিক ভাড়া উত্তোলন করে। এসব স্থাপনায় অনৈতিক কাজ, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি হয়ে আসছে, যা বন্ধে জেলা প্রশাসন থেকে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
 
বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা আইনজীবী নেতারা কখনোই অপসারণ করেনি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবী ভবন সংলগ্ন রাস্তার বৈদ্যুতিক পোল, ব্রিজ ইত্যাদিতে এখনও প্রশাসনের সিসিটিভি ক্যামেরা বিদ্যমান রয়েছে। আদালত এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে সমিতির প্রত্যেকটি ভবনের সম্মুখে নিজস্ব ব্যয়ে ২০১৫ সাল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। অথচ ডিসি বলছেন, আমারা আইনজীবীরা না-কি সিসিটিভি ক্যামরাগুলো অপসারণ করেছি।

জিয়া উদ্দিন বলেন, আইনজীবী সমিতি বৈধভাবে খাস জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত নিয়ে ভবন নির্মাণ করেছে। নতুন নির্মীয়মাণ ভবন দুটির জন্যও সিডিএসহ সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। কোর্টবিল্ডিং আদালত ও আইনজীবীদের জন্যই। আগের জেলা প্রশাসকদের নির্ধারিত করে দেয়া সীমানার মধ্যেই আমরা ভবন নির্মাণ করছি। যে বাধাই আসুক, আমরা ভবন নির্মাণে পিছপা হবো না।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, সাবেক সভাপতি বদরুল আনোয়ার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনতোষ বড়ুয়া, আব্দুর রশিদ প্রমুখ।  

এসকে