• ঢাকা
  • শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২১, ১২:২৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২১, ২০২১, ১২:৩৮ এএম

রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে তিস্তা

রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে তিস্তা
সংগৃহীত ছবি

রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে উত্তরের বহমান তিস্তা নদী।

বুধবার (২০ অক্টোবর) অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২.৬০ মিটার) সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তার পানি।

পানির তোড়ে ভেঙে গেছে ফ্লাড বাইপাস সহ অন্তত ৯টি বাঁধ। এসব বাঁধ ভেঙে নদীর পানি প্রবেশ করায় জেলার দুই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের তলিয়ে গেছে বাড়ি-ঘর, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। কেউ কেউ গবাদি পশু ও মালামাল নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেও অনেকের বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে নদী গর্ভে।

ঘরবাড়ি সহ সব হারিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে ৬ হাজার পরিবারের অন্তত ২৪ হাজার মানুষ। দুর্গত এসব মানুষের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা, ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ভারতের বন্যার প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকেই বাড়তে থাকে তিস্তার পানি। তবে উত্তর জনপদে বহমান এই নদী রুদ্র মূর্তি ধারণ করে সকাল নাগাদ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে তিস্তার পানি। বাড়তে বাড়তে বিকেল তিনটায় বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপরে উঠে নীলফামারী ডালিয়া পয়েন্টে।

পানির তোড়ে ভাঙন দেখা দেয় ব্যারেজ সংলগ্ন ফ্লাড বাইপাসে। এরপর একে একে ভাঙন দেখা দেয় নয়টি বাঁধে। ফলে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার চর গ্রামগুলোতে হুহু করে ঢুকে পড়ে ঢলের পানি।

বাড়িঘরে আকস্মিক পানি ঢুকে পরায় পানি বন্দী পয়ে পড়ে এসব চর গ্রামের অন্তত ২৪ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ রোপা আমনসহ রবি ফসল ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। কেউ কেউ গবাদি পশু ও মালামাল নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেও অনেকের বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে নদী গর্ভে।

সময় মতো খোঁজ খবর না রাখায় এমন ক্ষতির স্বীকার হতে হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

উত্তরাঞ্চল পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর বিভাগের প্রধান প্রকৌশলি জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে অল্প অল্প করে কমতে থাকে তিস্তার পানি। তবে তার আগেই ছোট-বড় নয়টি বাঁধের ৯৩০ মিটার বাঁধ বিলীন হয়েছে তিস্তার গর্ভে। ভাঙনের ফলে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙন ঠেকাতে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বন্যা কবলিত এসব মানুষকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। দুর্গত এসব মানুষের জন্য এরই মধ্যে নগদ ১০ লাখ টাকা ও ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিতরণ করা হয়েছে অসংখ্য প্যাকেট শুকনো খাবারও। সরকার সহ সবার সার্বিক সহায়তায় সর্বস্ব হারানো এসব মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা সবার।

জাগরণ/এসএসকে/এমএ