• ঢাকা
  • বুধবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২১, ০২:৫৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৫, ২০২১, ০৮:৫৩ এএম

আ‍‍`লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ,গুলিবিদ্ধ ১, ওসি প্রত্যাহার

আ‍‍`লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ,গুলিবিদ্ধ ১, ওসি প্রত্যাহার
ছবি- জাগরণ।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ  হযেছে। সংঘর্ষে একজন আওয়ামী লীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে বিএনপি কর্মীর বাড়ি। ঘটনায় দৌলতপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর বটতলা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে। এতে এক আওয়ামী লীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে একটি মোটর সাইকেল। অন্যদিকে এক বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা। এদিকে এ ঘটনার পরপরই দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিনকে এখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিম চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বিল্লাল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে বুধবার রাতে কল্যাণপুর বটতলা এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা দেখা দেয়। এর একদিন আগে সোমবার বিএনপির বিল্লাল হোসেনের সমর্থিত কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী আল্লারদর্গা বাজারে সবজি বিক্রি করতে গেলে তারা সেলিম চৌধুরীর কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। তাদের বাড়ি উপজেলার কল্যাণপুর বটতলা এলাকায়। এর জেরে বুধবার রাত ৮টার দিকে কল্যাণপুর বটতলা এলাকায় প্রতিপক্ষ সেলিম চৌধুরীর কর্মী-সমর্থক ও বিল্লাল হোসেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংস ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার সময় ৫-৬ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলিতে সাগর (৩০) নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি কর্মীদের ধাওয়ায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা পিছু হটলে তাদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। গুলিবিদ্ধ সাগর বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরীর ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি বুলবুল আহমেদ টৌকেন চৌধুরীর ব্যক্তিগত গাড়ি চালক। সেলিম চৌধুরী কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল হক চৌধুরীর ভাই। তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে কল্যাণপুরের এ ঘটনার পর পাশের আল্লারদর্গা থেকে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেল নিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপি অধ্যুষিত কল্যাণপুর বটতলায় এসে মহড়া দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারো নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ফের শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে বিএনপি কর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। আওয়ামী লীগ কর্মীরা মাসুদ নামে এক বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সাবেক সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ভাই শামীম মোল্লার নির্দেশে বিএনপি কর্মীরা কল্যাণপুর বাজারে তার নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এর আগে তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মিছিল বের করেন। ওই মিছিল থেকে নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে সেলিম চৌধুরীর দাবি।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেলিম চৌধুরীর অফিস ভাঙচুরের নামে নাটক সাজানো হয়েছে। সেখানে বিএনপির কোনো মিছিলই বের হয়নি। এই নাটকের মাধ্যমে মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের অফিস ভাঙচুর করেন বলে দাবি বাচ্চু মোল্লার।

দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুনরায় সহিংসতার আশঙ্কায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার সময় এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।

দৌলতপুর উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী সহিংসতা চলে আসছে। পুলিশ কিছুতেই এসব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। সর্বশেষ বুধবার রাতের এ ঘটনার পরপরই দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিনকে এখান থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তাকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। কুষ্টিয়া সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জাবিদ হাসানকে দৌলতপুর থানায় তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ওসি নাসির উদ্দিন রাতেই ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শফিকুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন।

 

এসকেএইচ//