• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১, ০৫:০২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৬, ২০২১, ০৫:০৩ পিএম

ছেলের বউয়ের নির্যাতনে শাশুড়ি হাসপাতালে

ছেলের বউয়ের নির্যাতনে শাশুড়ি হাসপাতালে
হাসপাতালের বিছানায় বৃদ্ধা বিধবা রাবেয়া বেগম । ছবি- জাগরণ।

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।। 
পটুয়াখালী কলাপাড়া ধানখালী ইউনিয়নের বৃদ্ধা বিধবা রাবেয়া বেগম ছেলের বউয়ের নির্যাতনে এখন হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন। তাকে মারধর করায় মুখের মাড়ি ফেটে গেছে। সমস্ত শরীরে ব্যথা। শরীরটা নড়াচড়া করতে কষ্ট হয়। লাথি, চড় থাপ্পড়, কিল ছিল প্রতিদিনের ঘটনা।

ভাতের সঙ্গে কাচ ভাঙ্গার গুড়া মিশিয়ে খাইয়ে মেরে ফেলা চেষ্টা চালানো হয়েছে। এমন সব নৃশংস বর্বর নির্যাতনের পরে ছেলে বউ খায়রুন্নাহার ঘরের মালামাল নিয়ে ভাইয়ের বাড়ি লোন্দা গ্রামে চলে গেছেন। বৃদ্ধা মায়ের এই দুরবস্থা দেখে ছেলে মিজানুর রহমান কোনও উপায় না পেয়ে মায়ের চিকিৎসার পাশাপাশি কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের স্ত্রী খায়রুন্নাহার হেনা ও স্ত্রীর ভাইকে আসামি করে বৃহস্পতিবার একটি মামলা করেছেন। 

জানা গেছে, মিজানুর রহমানের প্রথম স্ত্রী না থাকার কারণে বৃদ্ধা মা তার আত্মীয়ের মধ্যের এক মেয়ে খায়রুন্নাহার হেনাকে ২০১৭ সালে নিজের একটু শান্তির আশায় ছেলের সঙ্গে বিয়ে করান। জীবনের শেষ কয়টি দিন একটু স্বস্তিতে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চরম নির্মমতার শিকার হলেন। ছেলে মিজানুর কলাপাড়া পৌরসভার একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। বৃদ্ধা মা রাবেয়া বেগম ও স্ত্রী খায়রুন্নাহার নিশানবাড়িয়া মাছুয়াখালী গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। খায়রুন্নাহারের চালচলনে রাবেয়া বেগম সতর্ক করলে প্রচন্ড গালাগাল করতো।

এমনকি উশৃঙ্খল জীবনের অন্তরায় ভেবে খায়রুন্নাহার তার বৃদ্ধা শাশুড়ি রাবেয়া বেগমকে ২৫ আগস্ট কাচ ভাঙ্গা গুড়ো করে চিনির সঙ্গে মিশিয়ে খাইয়ে দেয়। এতে রাবেয়া বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। তখন খায়রুন্নাহার তার অপকর্মের জন্য ক্ষমা চায়। বৃদ্ধা রাবেয়াকে চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে ওঠেন। মিজানুর তার মামলায় আরও উল্লেখ করেছেন ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঘরের মালামালসহ কাপড় চোপড়, থালাবাটি, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা নিয়ে খায়রুন্নাহার ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এতে বাধা দিলে বৃদ্ধা শাশুড়ি রাবেয়া বেগমকে বেধড়ক মারধর করে। পেটানো হয়। এমনকি মারধরে ঠোট ফেটে রক্তাক্ত ও জখম হয়। বুকে পিঠে লাথি কিল ঘুষি দেয়া হয়। প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধা মানুষটি দিশেহারা হয়ে ডাক চিৎকার করলে লোকজন এসে উদ্ধার করেন।

কিন্তু এরই মধ্যে খায়রুন্নাহার ভ্যানযোগে মালামাল নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে চলে যায়। বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমকে জানায় অনেক আশা করে খায়রুন্নাহারকে ছেলেবউ করেছিলেন। কিন্তু এখন সব দুঃসহ স্মৃতি। ভাতের সঙ্গে মরিচ ভর্তা চাইলেও মুখের ওপর চড়থাপ্পড় দিত বউ। এমনকি ঝাড়–পেটা পর্যন্ত করা হয়েছে। নির্দয় এ নির্যাতনের কথা বলতে বলতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না বৃদ্ধা এ মানুষটি। মুখের কথার সঙ্গে চোখের অশ্রু গড়ায়।

মিজানুর রহমান জানান, তিনি স্ত্রীর এই জঘন্যতম নৃশংসতার বিচার চান। চিকিৎসক সায়মা সুলতানা বলেন, ওনার মুখের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের কথা তাকে বলেছেন বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম।
 

এসকেএইচ//