• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১, ১১:২১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৭, ২০২১, ০৫:২১ এএম

সাতক্ষীরায় ঘুষ ছাড়াই নিয়োগ পেলেন ৪১ জন পুলিশ

সাতক্ষীরায় ঘুষ ছাড়াই নিয়োগ পেলেন ৪১ জন পুলিশ

রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, পুলিশের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বাড়িতে বা সমাজের হোমরা চোমরাদের সান্নিধ্যে এবার আর চাকরি প্রার্থী বা তাদের স্বজনদের আনা গোনা দেখা যায়নি। চাকুরির জন্য জমি সহায় সম্পদ বিক্রি বা ব্যাংক এনজিও থেকে ঋণ নেয়ার কোনো খবরও শহরের চায়ের আড্ডায় শোনা যায়নি। চাকরি প্রার্থীদের তালিকা নিয়েও কোন রাখ-ঢাক করা হয়নি। এমনভাবেই সাতক্ষীরায় নিয়োগ সম্পন্ন হলো পুলিশের কনস্টেবল পদে।

সরকারি চাকরি পেতে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে প্রতিনিয়ত। তবে সাতক্ষীরায় ৭টি ধাপে কনস্টেবলদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চাকরি নামক সোনার হরিণ পেয়ে ব্যাপক খুশি নিয়োগ পাওয়া কনস্টেবলরা। তাদের আশা, চাকরির উপার্জনে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারবেন তারা।

সাড়ে ৬ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন ৪১ জন। নিয়োগকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সব ধরনের প্রভাবমুক্তভাবে যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর নিয়োগ পাওয়া কনস্টেবলরা পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পেরে উচ্ছ্বাসিত।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরায় ৪১টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন সাড়ে ছয় হাজার জন। এর মধ্যে মাঠ পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন করেন ১ হাজার ৬৪০ জন। তার মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন ৩০৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১১৩ জন। ২৪ নভেম্বর মৌখিক ও মনস্তাত্বিক পরীক্ষায় ৪১ জনকে চুড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ করা হয়। গত সোমবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ফলাফল ঘোষিত হয়।

চাকরি পাওয়া সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের নাজমা খাতুন জানান, তারা ২ বোন। তিনি বড়। ভাই না থাকাতে প্রতিবেশীরা বাবাকে প্রায়ই বলতো বিয়ে দিতে। কিন্তু আমি বাবাকে বলতাম, আমাকে নিয়ে তোমাকে তাড়াহুড়ো করতে হবে না। আমি ঠিকই তোমাদের উপার্জন করে খাওয়াব। বাবা বলতেন, চাকরি পেতে গেলেতো টাকা লাগে। আজকে বাবার এই আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমি নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি।

ঘুষ ও তদবির ছাড়াই চাকরি পাওয়াতে খুশি অভিভাবকরা। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দেয়ায় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে কলারোয়ার খলসি গ্রামের আনোয়ারা খাতুন জানান, ছেলে আজিজুল ইসলামকে নিয়ে খুবই হতাশ ছিলাম। ও কলেজে পড়ে। ভাবতাম, ১৫/২০ লাখ টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। স্বামী যা আয় করে, নুন আনতে পান্তা ফুরায়। কিন্তু আজ প্রমাণিত হয়েছে, চাকরি বিনা পয়সাতেও হয়।

জেলার পুলিশ সুপার পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব  মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ৪১ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনুসরণ করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পোষ্য কোটা ও নারী কোটা। মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে চাকরি পেয়েছে ৪১ জন তরুণ-তরুণী।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক মো. আনিসুর রহিম বলেন, লাখ লাখ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে আগে নিয়োগ দেয়া হতো। আগে দেখতাম জনপ্রতিনিধিদের বাড়িতে, পুলিশের সোর্সদের মাধ্যমে নিয়োগের জন্য লাইন পড়ে যেতো। যে কয়জনের চাকরি হতো তার দশগুণ বেশি মানুষের নিকট থেকে টাকা নেয়া হতো। টাকা দিয়েও চাকরি না পাওয়া ব্যক্তিদের মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যেতো। কিন্তু এবার আমরা দেখলাম সাড়ে ছয় হাজার মানুষ চাকুরির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল। তার মধ্য হতে ৪১ জনকে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর ফলে হতাশ হয়েছে দুর্নীতিবাজরা। আগামীতেও যেন প্রত্যেকটা নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করা হয় স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে এটা দেশবাসী আশা করে।

জেলা ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে আগামীতে সকল নিয়োগে এ ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানান জানিয়ে বলেন, এটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।