• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২২, ১১:২৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৭, ২০২২, ০৫:২৪ পিএম

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে ভাঙন

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে ভাঙন

রাশেদ আহম্মেদ রুবেল,বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)// 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরু ঢোল ভাঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে সরু ঢোলভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীরবর্তী জমির মালিকরা বাধা দিলেও তা আমলে না নিয়ে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরের খোষকান্দি গ্রামের উত্তর পাশের সরু ঢোলভাঙ্গা নদী প্রবাহিত। গত ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই নদী থেকে শ্যালো চালিত ইঞ্জিনের খনন যন্ত্র দিয়ে সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বালু উত্তোলন করছেন। ইউপি চেয়ারম্যান বালু উত্তোলন করে বাঞ্ছারামপুর কড়িকান্দি সড়কের খোষকান্দি গ্রামের মধ্য পাড়ায় সড়কের পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্পে জায়গা ভরাট করছেন। প্রতি ঘন ফুট বালু তিনি ৪ টাকা দরে বিক্রি করছেন। নদীর এই জায়গাটি গত কয়েক মাস আগেও পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটি কাটার যন্ত্র (ভেকু) দিয়ে খনন করেছে। বর্তমানে শ্যালো চালিত ইঞ্জিনের খনন যন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একাধিক কৃষক বালি উত্তোলন বন্ধ করতে বললে ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কারও কথা আমলে নেননি। ইউপি চেয়ারম্যান বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয়রা জানান, খোষকান্দি গ্রামের উত্তর পাশে দিয়ে সরু ঢোল ভাঙ্গা নদী বয়ে গেছে। এই নদী থেকেই বালু উত্তোলন করে গ্রামের দক্ষিণ পাশে বাঞ্ছারামপুর-ফেরিঘাট সড়কের পাশে চুনারচড় মৌজার ৬৫ শতাংশ খাস জমি ভরাট করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অর্ধেকের মতো জায়গা ভরাট করা হয়েছে। ৬৫ শতাংশ জায়গার ৮ ফুট উচ্চতা সমান ভরাটের কাজ চলছে। ঢোল ভাঙ্গা নদীর প্রস্থ অনেক কম হওয়া বালু উত্তোলনের কারণে ইতিমধ্যেই নদীর দুই পাড়ের তীরবর্তী ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার গিয়েছি। বালু উত্তোলনে বাধাও দিয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান কোনো কথা ও বাধা আমলে না নিয়ে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।

খোষকান্দি কান্দাপাড়ার কৃষক জামাল মিয়া জানান, চেয়ারম্যানকে বালু উত্তোলন না করতে একাধিক বার বলেছি। ড্রেজারের (খনন যন্ত্র) পাশেই আমার জমি। বালি উত্তোলন বন্ধ না করলে আমার জমিটি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

খোশকান্দি গ্রামের শতবর্ষী কৃষক শওকত আলী জানান, কিছুদিন আগে এই নদী খনন করছে। এতেই নদীরপাড়ে ভাঙন দেহা দিছে। তার উপর অহন ড্রেজার দিয়া বালু তোলার কারণে নদীর দুই পাশের জমিগুলো ভাইঙ্গা যাইব।  জমি ভাইঙ্গা যাইব এসব কইলেও চেয়ারম্যান কেউরেই পাত্তা দিতাছেনা। তিনি বলেন, কৃষকদের বিরাট ক্ষতি হচ্ছে।

খনন যন্ত্রের মালিক নাসির উদ্দিন মোল্লা জানান, আমাকে যে জায়গায় ড্রেজার বসাইতে বলেছে আমি সে জায়গাই বসাইছি। রহিম চেয়ারম্যান আমাকে বালু উত্তোলন করার জন্য আমার ড্রেজার ভাড়া করেছেন। প্রতি ফুটবালু উত্তোলনর জন্য আমাকে আড়াই টাকা করে দিবে বলেছে চেয়ারম্যান। বালু উত্তোলনের উদ্বোধনের দিন ইউএনও স্যার ও এসিল্যান্ড স্যার এসেছিলেন। এসিল্যান্ড স্যার দুই থেকে তিন দিন বালু উত্তোলনের কাজ এসে দেখে গেছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, আমি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গা ভরাট করছি। দুই লাখ ঘন ফুটের বেশি বালু লাগবে। ইউএনও স্যারের কথায় নদীতে ড্রেজার বসিয়েছি। প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য আমাকে ৪ টাকা করে দিবে। তবে বালু উত্তোলন করে এখনো কোনো টাকা পাইনি। কয়েকজন কৃষক আমার কাছে এসেছিলো তাদের কোনও ক্ষতি হবেনা বলে জানিয়েছি। যে জায়গা থেকে বালি উত্তেলন করা হচ্ছে দু’পাশে আমার জমি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একি মিত্র চাকমা জানান, চেয়ারম্যান সাহেবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জায়গাটি ভরাট করার জন্য, তবে কোথা থেকে বালি উত্তোলন করা হবে সেটা বলা হয়নি।

নদী থেকে বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদী থেকে বালি উত্তোলনের কথা আমার জানা নেই, আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গা ভরাট করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চেয়ারম্যান সাহেবকে। তবে গ্রামের অনেক দূর থেকে বালু উত্তোলন করার কথা শুনেছি। নদী থেকে বালু উত্তোলন করার বিষয়ে আমি বলতে পারবনা। যত দূর জানি, চেয়ারম্যানের জমির পাশ থেকে বালু উত্তোলন করা হবে। কৃষকদের ক্ষতি হলে ক্ষতির বিষয়টি আমি খোঁজ নিব। কেউ আমার কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

 

এসকেএইচ//