• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০১৯, ০৮:৫২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ৮, ২০১৯, ০৩:০৩ পিএম

বার্ন ইউনিটে দগ্ধ শিক্ষার্থীর পাশে শিক্ষামন্ত্রী

জাগরণ প্রতিবেদক
বার্ন ইউনিটে দগ্ধ শিক্ষার্থীর পাশে শিক্ষামন্ত্রী
দগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি - ফাইল ছবি

 

‘দোষীদের বিচার হবে আইন অনুযায়ী। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় নয়। দোষী যেই হোক, তাকে কোনও ছাড় দেয়া হবে না।’

রোববার (৭ এপ্রিল) রাতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ফেনীর সোনাগাজীর সেই মাদ্রাসা ছাত্রীকে দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রে গায়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় ওই ছাত্রীকে।

রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢামেকে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বার্ন ইউনিটের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)  চিকিৎসাধীন ছাত্রীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি হাসপাতাল ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। তবে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার করা হবে। এর আগে রোববার দুপুরে ওই ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ছাত্রীর চিকিৎসায় হাসপাতালে ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। 

এ ঘটনায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

 

দগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি -ফাইল ছবি

ওই ছাত্রীর ভাইয়ের ভাষ্যে, ২৭ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে সেই ছাত্রীকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। তখন সেই ছাত্রী নিজের সঙ্গে আরও ৩-৪ জন বান্ধবীকে নিয়ে অধ্যক্ষের রুমে ঢুকতে চাইলে সিরাজউদ্দৌলা অন্যদের ঢুকতে না দিয়ে কেবল সেই ছাত্রীকে নিয়ে যান। এরপর দরজা আটকে তিনি ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। এমনকি পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে তাকে প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে জানিয়ে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর সিরাজউদ্দৌলা ওই ছাত্রীর শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করলে সেখানে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে বাইরে বেহুশ হয়ে পড়ে যায়। তখন খবর পেয়ে মাদ্রাসায় থাকা ওই ছাত্রীর ছোট ভাই অধ্যক্ষের কক্ষে ছুটে যায়। অধ্যক্ষ তখন তাকে জানান, তার বোন অসুস্থ। সেজন্য ছুটির আবেদন করতে এসে পড়ে যায়।

দগ্ধ করার ঘটনার বর্ণনায় ওই ছাত্রীর ভাই জানায়, গত শনিবার (৬ এপ্রিল) আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিলো তার বোনের। সকালে মাদ্রাসায় গেলে একজন সেই ছাত্রীকে বলে যে, তার এক বান্ধবীকে কারা যেন ছাদে মারধর করছে। এ কথা শুনে সে তখনই সেখানে ছুটে যায়। কিন্তু সেখানে বোরকা পরা চারজন ওই ছাত্রীকে ঘিরে ধরে এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়। এই চাপ প্রত্যাখ্যান করায় সেই চারজন প্রথমে তাকে কিল-ঘুষি মারে। এক পর্যায়ে তারা সেই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে সেখানে ছুটে যান পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল রাসেল ও মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোস্তফা। পরে তারা ছাত্রীর গায়ে কার্পেট জড়িয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
 

এইচ এম/আরআই/টিএফ