• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ১০:০২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ১০:০৪ এএম

গ্রেফতার এড়াতে দেশ ছেড়েছেন ডজন খানেক নেতা

হালিম মোহাম্মদ
গ্রেফতার এড়াতে দেশ ছেড়েছেন ডজন খানেক নেতা

সাঁড়াশি অভিযানের টের পেয়ে আগে থেকেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন ডজনখানেক চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো গডফাদার। এরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা। তাদের মধ্যে কেউ যুবলীগ, কেউ ছাত্রলীগ, কেউ আওয়ামী লীগ আবার কেউ ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

জানা গেছে,  এ ডজনখানেক দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ এবং জুয়ার ব্যবসায়ীকে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন একজন মন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্য।

গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে এরই মধ্যে বিদেশে পালিয়ে গেছেন সেচ্ছাসেবক লীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খান ইরান, শ্রমিক লীগ সভাপতি পরিবহন নেতা সাদিকুর রহমান হিরু, তেজগাঁও থানা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, যুবলীগ দক্ষিণ যুগ্ম সম্পাদক মোমিনুর রহমান সাঈদসহ আরও অনেকে। 

গ্রেফতার এড়াতে রাজধানী ছেড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আত্মগোপনে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বেশকিছু নেতা। এরা সবাই কেন্দ্রীয়, মহানগর ও থানা কমিটির নেতা। গ্রেফতারের ভয়ে এরা এখন আর লোকালয়ে বের হয়ে আসছেন না।

যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের হদিস পাচ্ছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি কোথায় বা তার অন্য কোনও তথ্য দিতে পারে নি গোয়েন্দারা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে খালেদ ও শামীম গ্রেফতারের পর থেকে হঠাৎ করেই কাকরাইলের অফিস থেকে উধাও হয়ে গেছেন সম্রাট। তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারে নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। 

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যাওয়া অভিযোগের যাচাই-বাছাই শেষে একটা তালিকা তুলে দেয়া হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে- যার মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ ও কাউন্সিলর। 

আটক যুবলীগের কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে ব্রাদার্স ক্লাবের সভাপতি যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইকবাল সান্টুসহ এক ডজন নেতাকে। এসব নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও ক্যাসিনোর টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, সম্প্রতি সারাদেশে আলোচিত ইস্যু ক্যাসিনো ব্যবসা। এরই মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ যেই দলের হোক কোনও ছাড় নেই।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতা হোক, সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হোক, বা জন প্রতিনিধি হোক, কাউকেই আইনসঙ্গত নয়, এমন ব্যবসা করতে দেব না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা সে কাজটিই করছি। প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় চাঁদাবাজি ও আইন বহির্ভূত সব ব্যবসার বিরুদ্ধে কাজ করছি।

এইচএম/এসএমএম

আরও পড়ুন