• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ০৪:২৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ০৪:২৬ পিএম

অভিযুক্ত না হয়েও আসামি, ১৮ বছর পর দায়মুক্তি

নাটোর সংবাদদাতা
অভিযুক্ত না হয়েও আসামি, ১৮ বছর পর দায়মুক্তি
১৮ বছর পর মামলা থেকে মুক্তি পেলেন বাবলু শেখ  -  ছবি : জাগরণ

মামলায় অভিযুক্ত না হয়েও পুলিশ আর আইনজীবীর ভুলে আসামি হয়ে দুই মাস কারাভোগ করাসহ ১৮ বছর পর আদালতের নির্দেশে মামলা থেকে মুক্তি পেলেন বাবলু শেখ। একই সাথে তৎকালীন মামলার তদন্তকারী দুই কর্মকর্তা ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ ও বাবলু শেখকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

নাটোর জজ কোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম ও আদালতের নথিপত্র এবং বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাজী আবদুল মালেক বাদী হয়ে শ্রী বাবুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় ওই বছরের ১৮ এপ্রিল একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৪। মামলায় সিংড়া উপজেলার আঁচল কোট গ্রামের শ্রীদেব দাসের ছেলে বাবুকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।

নাটোর সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম বাবুকে অভিযুক্ত করে ২০০১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর পুনরায় বাবুকে অভিযুক্ত করে সদর থানার উপপরিদর্শক হেলেনা পারভীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামি বাবুকে গ্রেফতার না করে ইয়াকুব আলীর ছেলে বাবলু শেখকে ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এই ভুলের বিষয়টি আদালতকে অবহিত না করে ছয় দিন পর ১৩ নভেম্বর আসামির আইনজীবী বাবু পরিচয়েই বাবলু শেখের জামিন করান। পরে ওই পরিচয়েই বাবলু শেখের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামি পরীক্ষা করেন।

যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৬ সালের ২৩ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আসামি বাবুর বিরুদ্ধে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। ওই দিন কাঠগড়া থেকে বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি একই বছরের ১৬ আগস্ট আপিলের মাধ্যমে জামিনে বের হন।

এ বিষয়ে নাটোর দায়রা আদালতে আপিল করা হলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয়। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক বাবলু শেখকে মামলা থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন। একই সাথে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল ইসলাম ও এসআই হেলেনা পারভীন সঠিকভাবে তদন্ত না করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেন। পর্যবেক্ষণে মামলার ফরোয়ার্ডিং কর্মকর্তা তৎকালীন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)ও বিরুদ্ধে দায়ত্ব অবহেলা প্রমাণিত হয়।

মামলায় আরো বলা হয়, বাবলু শেখের সাজা ভোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী  সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এ বিষয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের জন্য এই রায়ের কপি বার কাউন্সিলের সভাপতি ও সেক্রেটারি বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এনআই

আরও পড়ুন