• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০১৯, ১১:০৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৮, ২০১৯, ১১:০৫ এএম

ওয়ারেন্ট বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, জেল খাটছেন ছোট ভাই 

জাগরণ প্রতিবেদক
ওয়ারেন্ট বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, জেল খাটছেন ছোট ভাই 

পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় বড় ভাইয়ের নামে ওয়ারেন্ট, অথচ জেল খাটছেন ছোট ভাই। থানা পুলিশের ভুলের কারণে একটি হত্যা মামলার আসামি ইমতিয়াজ আহমেদের (৪২) স্থলে কারাগারে রয়েছেন ইসতিয়াক আহমেদ (৩৯)। 

ওয়ারেন্টের আসামি ইমতিয়াজ জামিন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সেই পরোয়ানায় বংশাল থানা পুলিশ ভুল করে তারই ছোট ভাই ইসতিয়াক আহমেদকে (৪০) ধরে নিয়ে আসে। গত ৫ নভেম্বর তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশের ভুলের কারণে ৫ নভেম্বর থেকে আসামি না হয়েও ইসতিয়াক জেল খাটছেন বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী।

ইসতিয়াকের আইনজীবী মির্জা আলী খান জানান, রাজধানীর বংশাল থানাধীন ৭৯/৮০, ওসমানগণি রোডের আলুবাজারের মমতাজ উদ্দিন আহমদের ছেলে ইসতিয়াককে গত ৪ নভেম্বর গ্রেফতার করে বংশাল থানা পুলিশ। পরদিন ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বিচার চলছে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। বুধবার বিষয়টি উল্লেখ করে আবেদন দাখিল করি। যার ওপর বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। সেখানে আমরা গ্রেফতারকৃতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র দিয়ে শুনানি করি। পুলিশের খাম-খেয়ালিপনায় নির্দোষ ব্যক্তি এখন জেলে- এ কথাও আদালতে বলেছি। বিচারক মো. রবিউল আলম শুনানি শেষে বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ওই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। 

আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ সালাহউদ্দিন হাওলাদার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ইসতিয়াককে গ্রেফতার দেখানো মামলার নথিতে দেখা যায়, ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার দিকে ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান শাহিন তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইকবাল এন্টারপ্রাইজ থেকে নর্থ সাউথ রোডস্থ যমুনা ব্যাংক নয়াবাজার শাখায় টাকা উত্তোলনের জন্য ম্যানেজার রুবেল এবং দোকানের শ্রমিক মো. নাসির নিয়ে যান। ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা তারা তিনজন বিকাল পৌনে ৪টার দিকে নাজিরা বাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে পায়ে হেঁটে রওয়া হন। পথে ৩/৪ জন ছিনতাইকারী টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলি চালায়। ম্যানেজার রুবেলের বুক এবং নাসিরের উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়। আসামিরা টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। রুবেলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই দিনই হাবিবুর রহমান শাহিন বংশাল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ২০১৪ সালের ৩১ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ইশতিয়াকের বড় ভাই ইমতিয়াজ আহম্মেদসহ ৭ জন আসামি। অপর আসামিরা হলেন- রানা ওরফে সিরাজুল ইসলাম, পিচ্চি হান্নু ওরফে হান্নান, রাসেল, ফিরোজ চৌধুরী ওরফে ফিরোজ, জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মোশাররফ হোসেন। মামলায় সাত আসামির বিরুদ্ধেই চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়ে বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

আগামী ২২ জানুয়ারি মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য হয়েছে।

সাক্ষ্য গ্রহণের এক পর্যায়ে ইমতিয়াজ আহম্মেদ জামিন পান। পরবর্তীতে হাইকোর্ট তার জামিন বাতিল করলেও তিনি আর আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই পরোয়ানায় গ্রেফতার হন ইসতিয়াক।

এইচএম/ এফসি

আরও পড়ুন