• ঢাকা
  • শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০, ০৫:৪৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০, ০৫:৪৭ পিএম

সিটি নির্বাচনে জিতিয়ে দেয়া প্রতারক দুই ওসি গ্রেফতার

জাগরণ প্রতিবেদক
সিটি নির্বাচনে জিতিয়ে দেয়া প্রতারক দুই ওসি গ্রেফতার

রাজধানীতে এরাই ওসি, আবার এরাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ওসি ও ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে সিটি নির্বাচনে জিতিয়ে দেয়ার নামে টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানার ওসির মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে ওসি পরিচয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিতিয়ে দেয়ার কথা বলে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারক চক্রটি।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- প্রতারকচক্রের মূলহোতা সাইদুল ইসলাম বিপ্লব ও তার সহযোগী পলাশ ইসলাম।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই চক্রের দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ৮ জানুয়ারি (শনিবার) রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে প্রথমে সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাশ ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের সিম, মোবাইল, ব্যাংকের চেক ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) তৌহিদুজ্জামান ও আদাবর থানা পুলিশ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি ডিএনসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কাশেমকে ও ২২ জানুয়ারি একই ওয়ার্ডের ইয়াছিন মোল্লাকে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে জিতিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয় প্রতারকরা। বিনিময়ে দুজনের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে তারা। দুই প্রার্থীই টাকা দিতে রাজি হন। তাদের মধ্যে আবুল কাশেম ৭ লাখ এবং ইয়াছিন মোল্লা ৫ লাখ টাকা বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ারি আলম ডেইজিকে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নম্বর থেকে ফোন দেয়া হয়। তার কাছেও মোটা অংকের টাকা দাবি করে প্রতারকরা। তিনিও একই কায়দায় পাঁচ লাখ টাকা দেন। পরে দ্বিতীয় দফায় আবারও টাকা চাইলে ওই তিন প্রার্থী বুঝতে পারেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন। এরপর তারা পৃথকভাবে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। তিনজনই এই ঘটনায় মামলা করেন।

ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর পুলিশ এই চক্রটির দুজনকে গ্রেফতার করেছে। প্রতারকচক্রের গ্রেফতার সদস্যরা জানায়, তারা ওসিদের নম্বর স্পুফিং (কল স্পুফিং হলো প্রকৃত নম্বর গোপন রেখে অন্য এক ব্যবহারকারীর নম্বর অথবা বিশেষ কোনও নম্বর দিয়ে কল করার প্রযুক্তি) করে এই প্রতারণা করেছে। তারা একটি ভিওআইপি সার্ভিস থেকে নিবন্ধন নিয়ে অ্যাপসের মাধ্যমে নম্বর স্পুফিং করতো।

এইচএম/এসএমএম