• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২০, ০৪:৫৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ৫, ২০২০, ০৪:৫৯ পিএম

জেএমবির ১৭ সদস্য গ্রেফতার

জিহাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হিজরতের চেষ্টা

জাগরণ প্রতিবেদক
জিহাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হিজরতের চেষ্টা
সংগৃহীত ছবি

সৌদিতে অবস্থানরত প্রকৌশলী সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান জিহাদের পক্ষে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে বিভিন্ন বক্তব্যের অডিও শুনে তার ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে হিজরতের চেষ্টা করেছেন ১৭ জন কর্মী। তারা প্রত্যেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন।

সোমবার (৪ মে) রাতে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের বিপরীত পাশে পাবলিক হেলথ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মুঠোফোন ফোন, ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশী টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারা হলেন- হায়দার আলী,  মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, জামিরুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, শেখ আরাফাত ওরফে জনি,  ইমরুল হাসান ওরফে ইমন, সাইফুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ শাহজালাল, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির,  আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ, সোহাইল সরদার, মওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন, মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ, মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ও সোহাগ হাসান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে গণমাধ্যমে ই-মেইল বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগ।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) তহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতাররা জনৈক প্রকৌশলী সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের বিভিন্ন বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঈমাম মাহদীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রকৌশলী সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে সৌদি আরব যান এবং সেখানে বর্তমানে অবস্থান করছেন। তিনি গাজওয়াতুল হিন্দ নামক স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়ে অডিও ভিডিও প্রকাশ করেন।

 

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতাররা পলাতক সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের সাথে যোগাযোগ রাখতেন এবং মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তারা পরস্পর যোগাযোগ করে হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন।

তাবলিগ-জামায়াতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবে। তাদের বলা হয়েছিল করোনার দুর্যোগে আকাশ থেকে এক ধরনের গজব নেমে আসবে এবং সমস্ত কিছু ধোঁয়াছন্ন হয়ে যাবে তখন সীমান্তে কোনও পাহারা থাকবে না এই সময় তারা যেন চলে আসেন।

এই বিশ্বাস নিয়ে গত ১৮ মার্চ তারা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন ভারতে যাওয়ার জন্য। তাদের আরও জানান হয়েছিল আগামী চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে, কাফিররা সবাই মারা যাবে, ঈমানদারদের শুধু হালকা কাঁশি হবে, ঈমাম মাহাদির আগমন এই রমজানে সমাগত তাই তারা যেভাবে পারে সেভাবে যেন আসার চেষ্টা করে। তারা সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পেরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সে মোতাবেক তারা ঢাকায় আসেন।

এডিসি তোহিদ বলেন, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সাথে যোগাযোগ করে এরই মধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালনের উদ্দেশে গমন করে আর ফিরে আসেননি।

বিভিন্ন সময় সা’দ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরও ৭ জন ঈমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দেশে সৌদিআরব হিজরত করেছেন বলে গ্রেফতাররা জিজ্ঞাসাবাদে জানান।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।

এসএমএম

আরও পড়ুন