• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১, ১০:২৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ৯, ২০২১, ০৪:২৩ এএম

বাটখারা বেঁধে ব্রিজ থেকে ফেলা হয় লাশ

বাটখারা বেঁধে ব্রিজ থেকে ফেলা হয় লাশ
সংগৃহীত ছবি

অপহরণ মামলার তদন্তে বেরিয়ে এলো খুনের লোমহর্ষক তথ্য।

প্রায় দেড় মাস পর ঘড়ি-ব্রেসলেট দেখে মরদেহ চিনলেন স্বজনরা। অপহরণে সন্দেহ ছিল যার দিকে, তদন্তে বেরিয়ে এলো তিনিই খুনি।

গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে পঞ্চাশোর্ধ্ব আবদুল হাই স্বীকার করেন, ত্রিমুখী সম্পর্কের জেরে, এই হত্যাকাণ্ড।

স্বামীর সাথে নাসরিন সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন কয়েক বছর আগে। মেয়ে নাবিলাকে নিয়ে থাকতেন রাজধানীর কদমতলী থানার গোয়ালবাড়ি এলাকায়। পূর্ব পরিচিত ওষুধ ব্যবসায়ী আবদুল হাইয়ের সাথে ছিলো ঘনিষ্ঠতা। ১৮ মে (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার আগে বাসা থেকে বেরিয়ে যান নাসরিন সুলতানা। তারপর থেকেই ছিলেন নিখোঁজ। 

শেষ বেরিয়ে যাওয়ার দিন, সন্ধ্যার পর ফোন করেন নিচতলায় থাকা প্রতিবেশীকে। অনুরোধ করেন মেয়েকে খাবার পৌঁছে দিতে। মেয়ে নাবিলাকেও ফোন করে বলেন আসতে দেরি হবে। তখনই মায়ের গলায় অস্বাভাবিকতা টের পান ক্লাস নাইনের শিক্ষার্থী নাবিলা।

পরদিন আবদুল হাই মামলা করতে অনুৎসাহিত করেন সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে। এড়িয়ে গেছেন, পরিবারের সদস্যরাও।

নিখোঁজের সপ্তাহখানেক পর অপহরণ মামলা হয়।

তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় প্রথমেই আসে, আবদুল হাইয়ের নাম। নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণের পর, চালকসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চালক স্বীকার করেন, সেদিন গাড়ির ভেতরেই গলা টিপে নাসরিনকে হত্যা করেন আবদুল হাই।

দড়ি দিয়ে বাটখারা বেঁধে কাঞ্চন ব্রিজ থেকে লাশ ফেলে দেন শীতলক্ষ্যা নদীতে।

আবদুল হাইও স্বীকার করেন নিজ হাতে খুনের কথা। পরে খোঁজ মেলে ঘটনার তিনদিন পর রুপগঞ্জ থানা পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসাবে যে মরদেহ উদ্ধার করেছিলো সেটাই নাসরিনের।

ঘড়ি ব্রেসলেট আংটি দেখে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরাও।

আবদুল হাই আর তার চালক দুজনই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে। বিচারের অপেক্ষায় এখন হত্যা মামলা।

জাগরণ/এসএসকে/এমএ