• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০১৯, ০৮:১৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২১, ২০১৯, ০২:১৬ পিএম

স্যোসাল ইসালামী ব্যাংকের রাজস্ব ফাঁকি প্রায় ৫২ কোটি টাকা 

আলী ইব্রাহিম
স্যোসাল ইসালামী ব্যাংকের রাজস্ব ফাঁকি প্রায় ৫২ কোটি টাকা 

স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের সুদসহ রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ৫১ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ১৩৪ টাকা। ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ৭ বছরে ব্যাংকটি মূসক বাবদ এই পরিমাণে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। দুই ধাপে করা মূসক নীরিক্ষার এক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধে নানা ধরনের টাল-বাহানা করতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর মূল্য সংযোজন করের নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর দুই ধাপে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে নিরীক্ষা মেয়াদের দলিল-পত্র পর্যালোচনায় মূসকের সঙ্গে দেয়া ট্রেজারি চালানের মধ্যে তথ্যের বড় ধরনের গরমিল উঠে আসে। এরই প্রেক্ষিতে ব্যাংকটির ভ্যাট প্রদানের ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র ধরা পড়ে। 

দুই ধাপে করা নিরীক্ষার প্রথম ধাপে ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরীক্ষা করে এনবিআরের মূসক গোয়েন্দা। পরবর্তী ধাপে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরীক্ষা করা হয়। এতে ব্যাংকটির দেয়া সিএ ফার্মের অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতেও মূসক ফাঁকির প্রমাণ পায় মূসক গোয়েন্দা।

এ বিষয়ে স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওসমান আলীর সঙ্গে বার বার দেখা করতে চাইলেও তিনি দেখা করেননি। পরবর্তীতে তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তিনি ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে এই বিষয়ে কথা বলতে বলে। হুমায়ুন কবির দৈনিক জাগরণকে বলেন, কোনো ব্যাংক ভ্যাট-ট্যাক্স না দিয়ে দেশে ব্যবসা করতে পারবে না। পরবর্তীতে তাকে ৫১ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি বললে তিনি ব্যাংকের ট্যাক্স-ভ্যাট যিনি দেখেন তার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। এক সপ্তাহ অতিক্রম হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একই জবাব দেন। 

সূত্র আরো জানায়, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ব্যাংকিং খাতের আয়, অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়, বাড়ি ভাড়া ও উৎসে কর কর্তিত খাত সমুহের মূসক ফাঁকির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ টাকা। আর এই মূসকের টাকা সঠিক সময়ে পরিশোধ না করার কারণে সুদের পরিমাণ ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৭৯৬ টাকা। এছাড়া এক্সচেঞ্জ ইনকামের উপর ব্যাংকটির মূসক ফাঁকির পরিমাণ ২৯ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৪ টাকা। সঠিক সময়ে মূসক পরিশোধ না করার কারণে আইন অনুযায়ী ২ শতাংশ সুদ ১৩ কোটি ৭১ লাখ ১৭ হাজার ১১৮ টাকা।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা উপেক্ষা করে দিব্বি ব্যবসা করছে দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যেসব ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দিচ্ছে না তারা ঠিকমত সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদান করছে কি না খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

এআই/ এফসি