• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০১৯, ০৭:২১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২০, ২০১৯, ০৭:২১ পিএম

বেড়েই চলেছে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি

দশ মাসে ঘাটতি ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা

জাগরণ প্রতিবেদক
দশ মাসে ঘাটতি ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা

দেশের চাহিদা বিবেচনায় আমদানি বাড়লেও বাড়েনি রপ্তানী। যার কারণে বেড়েই চলেছে বাণিজ্য ঘাটতি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১০ মাসে বর্হিবিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা বা ১ হাজার ৩৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

অর্থনীতিবিদরা বৈদেশিক বাণিজ্যের এ অবস্থা অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে। এসব বড় বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যোগান দিতেই আমদানি করতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় যে হারে বেড়েছে, সেই তুলনায় রপ্তানী আয় বাড়েনি। যার কারণে বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের (জুলাই-এপ্রিল) অর্থাৎ প্রথম দশমাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ এক লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের ১০ মাস শেষে ইপিজেডসহ রপ্তানী খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এপ্রিল মাস শেষে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা (বিনিময় হার ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে)। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্যে ঘাটতি আরও বেশি ছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাণিজ্য ঘটতি ছিল ১ হাজার ৫২৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

আলোচ্য সময়ে সেবাখাতে বেতন ভাতা বাবদ বিদেশিদের পরিশোধ করা হয়েছে ৮৬৪ কোটি ডলার। এর বিপরীতে বাংলাদেশ এ খাতে আয় করেছে ৫৬৭ কোটি ডলার। এ হিসাবে সেবাখাতে দেশে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯৬ কোটি ডলার, যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৯১ কোটি ডলার। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৩১১ কোটি ডলার, যার প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ১ শতাংশ। পণ্য ও সেবা বাণিজ্যে যে পরিমাণ ঘাটতি হয়েছে, তা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাব ঋণাত্মক (-) রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এর পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এছাড়া অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৭৯ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত মানে হলো নিয়মিত লেনদেনে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকা মানে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হবে। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। আমদানি চাপের কারণে ডলারের দাম বাড়ছে। ফলে চলতি বছরে কয়েক দফা ডলারের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বছরের শুরুর দিন আন্তঃব্যাংক রেটে ডলারের দাম ছিল ৮৩ টাকা ৯০ পয়সা। এখন ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, আলোচিত সময়ে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৩১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এর মধ্যে নীট বিদেশি বিনিয়োগ ১৪৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের চেয়ে এফডিআই বেড়েছে ২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ আর নীট বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। এছাড়া এফডিআই বাড়লেও দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপক হারে কমেছে। গত অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ৫৭ শতাংশের উপরে কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পুঁজিবাজারে মাত্র ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা তার আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

এআই/টিএফ
 

Islami Bank