• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০১৯, ১০:১৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২৩, ২০১৯, ১০:১৬ এএম

মন্ত্রী-সচিবের দেখা পাচ্ছেন না, পথে বসে গেছেন চামড়া ব্যসায়ীরা

মেহ্দী আজাদ মাসুম
মন্ত্রী-সচিবের দেখা পাচ্ছেন না, পথে বসে গেছেন চামড়া ব্যসায়ীরা

সচিবালয়ে ট্যানারি মালিক-আড়তদার ও সরকারের তৃপক্ষীয় বৈঠকে চামড়া নিয়ে সমস্যার প্রাথমিক ধাপে সমাধান হলেও পথে বসে গেছেন কয়েক হাজার খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী। যারা মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া কিনে আড়তদারদের কাছে বিক্রয় করেন। এবার সম্পূর্ণরুপে তারা পথে বসে গেছেন। তাদের অর্থ-কষ্টের কথা জানাতে দু’দিন ধরে সচিবালয়ে ধর্ণা দিয়েও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং সচিবের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। অশ্রুশিক্ত চোখে ফিরে গেছেন নিজ গন্তব্যে। তবে এসব বিষয়ে সচিব বলেছেন, মন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে এলে তার সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।

পুরান ঢাকার বংশাল রোডের ফোরকান আলী, হাজারীবাগের মনির হোসেন ও রায়ের বাজারের সমির কুমার দে গত দু’দিন ধরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এসেছিলেন মন্ত্রী টিপু মুনশি এবং সচিব মফিজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে। বাণিজ্য মন্ত্রী চামড়া নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে ব্রাজিল গেছেন, তা তাদের জানা নেই। বুধবার (২১ আগস্ট) সচিবালয়ে এসে মন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিষয়টি জেনে সচিবের সাক্ষাৎ পেতে চান। জানাতে চেয়েছিলেন এবারের কোরবানির চামড়া কিনে ভয়াবহ দরপতনে তাদের পথে বসে যাওয়ার বিষয়টি। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বসে থেকেও সচিবের সাক্ষাৎ পাননি। জানাতে পারেননি তাদের অসহায় অবস্থা। 

সচিবালয়ে আসা হাজারিবাগের মনির হোসেন দৈনিক জাগরণকে বলেন,  ‘দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে হাজারীবাগ এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ট্যানারিতে কাজ করতেন এক সময়। এরপর ট্যানারির ফেলে দেয়া চামড়া কুড়িয়ে জুতা তৈরির কারখানায় বিক্রয় করতেন। এরই পাশাপাশি কোরবানি এলে বছরধরে তার জমানো টাকা নিয়ে নেমে পড়তেন চামড়া কিনতে। এক থেকে দেড় লাখ টাকার চামড়া কিনে একটু বেশি দামে বিক্রয় করতেন আড়তদারদের কাছে। এবছরও অনেক চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু তার আর আড়তদারদের কাছে বিক্রয় করতে পারেননি। অনুরোধ করে এক আড়তদারের গুদামে লবন দিয়ে ফেলে রেখে এসেছেন। জানেন না এবারের লগ্নী করা অর্থ আর তুলতে পারবেন কি না। অনিশ্চয়তায় চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন মনির হোসেন। 

একই অবস্থা হয়েছে বংশালের ফোরকান আলীর। তবে তিনি ছিলেন প্রায় বাকরুদ্ধ। কোন কথাই যেন তিনি বলতে পারছিলেন না। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলেন। তবে আশা ছাড়েননি ফোরকান। মন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরলে আবারও সচিবালয়ে আসবেন বলে জানান এই প্রতিবেদককে।

উল্লেখ্য, এবারের কোরনবানির চামড়া পচে যাওয়া, মাটিতে পুতে ফেলাসহ উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে  গত ১৮ আগস্ট ট্যানারি মালিক, আড়তদার এবং সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আড়তদারেদের বকেয়া পাওনা নিয়ে বিরোধ সমাধান করা হলেও খুচরা চামড়া ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি আলোচনায় আসেনি। অথচ বেশি ক্ষতিগ্রস্থই হয়েছেন খুচড়া বা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা।

তবে এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিজুল ইসলাম দৈনিক জাগরণকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত আছি। তবে আমি একা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না। সে কারণেই মন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বিদেশ থেকে ফিরে এলে এ নিয়ে আলোচনা হবে।’

এমএএম/বিএস 

আরও পড়ুন

Islami Bank