• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১০:৩৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১০:৩৪ এএম

সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ১৩ হাজার কোটি টাকা

জাগরণ প্রতিবেদক
সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ১৩ হাজার কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো

ঋণ অনিয়ম, খেলাপি ঋণ, সুশাসনের অভাবে ডুবছে দেশের ব্যাংক খাত। আর সরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই ভয়াবহ। দিন দিন এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। যার কারণে মুনাফার পরিবর্তে মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। আলোচ্য সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ব ৭ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকারও উপরে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিদায়ী বছর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ব সাত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২৭০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ৯ হাজার ১৬৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। মূলধন ঘাটতির দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনতা। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি এক হাজার ২০১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া সোনালীর ৮৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৪৫৬ কোটি ১০ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক ৬০০ কোটি ২৬ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক ২৯৪ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ৬৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে ব্যাংক খাত ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এটিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এতে করে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এ সংকট উত্তরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের মধ্যে যা বেশি সেই পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এদিকে ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ ন্যূনতম মূলধনের পাশাপাশি দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। বর্তমানে ব্যাংক খাতে মূলধন সংরক্ষণের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণে কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো বেশি খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এর কারণ সরকারি ব্যাংকে যারা ঋণখেলাপি, তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তারা যথেষ্ট প্রভাবশালী। কাজেই ইচ্ছে করলেই ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে সহজে ব্যবস্থা নিতে পারে না। অপরদিকে খেলাপি হয়েও কোনো সমস্যা হচ্ছে না উল্টো অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। এসব কারণে সরকারি ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। আগের বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৯০ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। এ হিসা‌বে গত এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। আগের প্রান্তিক জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

এআই /বিএস 
 

আরও পড়ুন

Islami Bank