• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ০৫:১৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ০৫:১৯ পিএম

রাতারাতি পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর নেপথ্যে আমদানিকারকরা

আলী ইব্রাহিম
রাতারাতি পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর নেপথ্যে আমদানিকারকরা

যেকোনো পণ্যের দাম যখন আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ে তখন প্রথম খবরটা দেন আমদানিকারকরা। এবারও পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। গতকাল রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার খবরে রাতারাতি বেড়ে গেল পেঁয়াজের দাম। যে পেঁয়াজ রাতে বিক্রি হলো ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা, সেই একই পেঁয়াজ সকালে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। গোডাউনে রাখা কম দামে কেনা পেঁয়াজের দামও হয়ে গেল চড়া। এটা মূলত আমদানিকারকদের ফোনেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পরের দিনই একলাফে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) যে দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বিভিন্ন বাজারভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। অথচ রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত প্রতি কেজি পেঁয়াজের খুচরা মূল্য ছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। বিভিন্ন আড়তে প্রতি কেজি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের রফতানি বন্ধ ঘোষণার পরেই আমদানিকারকরা তাদের দাম বাড়াতে বলেন। তবে বাণিজ্য সচিব বলছেন, মিয়ানমার থেকে দুই জাহাজ পেঁয়াজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। একটি থেকে এরইমধ্যে খালাস শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই তা বাজারে সরবরাহ শুরু হলে দাম আবার নাগালে চলে আসবে। রোববার ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার খবরে রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি আড়তে দুপুরের পর থেকে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এদিন দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন আড়তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও বিকেলের পর থেকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ফলে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আড়তে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় ২০ থেকে ২৫ টাকা।

রোববার রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন মহল্লার দোকানগুলোয় এবং খুচরা বাজারে পেঁয়াজ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছিল। অর্থাৎ তখনও পর্যন্ত এসব দোকানে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর খবর পৌঁছেনি। ফলে রোববার রাতেও এসব দোকানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। কিন্তু সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩৫ টাকা বেড়ে এলাকাভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর শ্যামবাজার পেঁয়াজ-বসুন আড়তদার সমিতির এক নেতা বলেন, রোববার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ ৫৭ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু দুপুর ১টার পর আমদানিকারকরা আমাদের ফোন করে জানিয়েছেন, ভারত ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৭৫ টাকার নিচে বিক্রি করবেন না। কারণ ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। বর্তমানে ভারতের কলকাতাতেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ রুপি। কিন্তু তখনো দেশি পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এই খবর পাননি। তিনি বলেন, ‘আমদানিকারকদের নির্দেশে আমরা রোববার দুপুরের পর পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিই। পরে বিকালে তারা আবার আমাদের ফোনে করে বলে দেয় ভারত ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৭৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা বিক্রি করতে। পরে সন্ধ্যা থেকে আমরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। এতে স্বাভাবিকভাবেই খুচরা বাজারে তা আরো বাড়বে। তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ টন পেঁয়াজ বিক্রি করি। আর শ্যামবাজারে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ টন মেট্রিক টন পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়।’

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, ভারত সরকারের পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। এরইমধ্যে মিয়ানমার থেকে দুটি জাহাজ পেঁয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলেই পেঁয়াজ খালাস শুরু হয়েছে। আগামী দু’তিন দিনের মধ্যেই তা খুচরা বাজারে পাওয়া যাবে। এছাড়াও, তুরস্ক ও মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইপলাইনে রয়েছে। ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানির বন্ধের খবরে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে- এটা সত্য। তারপরেও আমরা এ নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক রয়েছি। আমরা সারাক্ষণ এটা নিয়েই কাজ করছি।

বাণিজ্য সচিব বলেন, আমাদের পেঁয়াজের চাহিদা বছরে ২৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হচ্ছে ২৩ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বছরে আমাদের ঘাটতি থাকে ৮ থেকে ৯ লাখ মেট্রিক টন। এই ঘাটতি মোকাবিলায় আমরা বছরে ৮ থেকে ৯ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করে থাকি। পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হবে। মূল্য নিয়ন্ত্রক এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভারত সরকার প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইজ (এমইপি) নির্ধারণ করে দিয়েছে। আগে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার থাকলেও গত ১৩ সেপ্টেম্বর তা বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার পুনর্নির্ধারণ করেছে ভারত। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পুরোপুরি পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে।

এআই/ এফসি

আরও পড়ুন

Islami Bank