• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০১৯, ০৮:০৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ১, ২০১৯, ০৮:০৫ পিএম

পেঁয়াজের অগ্নিমূল্য

‘আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি’

পেঁয়াজ ইস্যুতে আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ এমপি। 

রোববার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি উপস্থিত ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, উৎপাদন ও আমদানি বাড়লে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হলে নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।ঘাটতি পূরণে কেবল ভারত-নির্ভর আমদানিনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

পেঁয়াজের দাম বাড়াটা অনেকটা আকষ্মিক— এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ তেকে পেঁয়াজের আমদানি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের ব্যবসায়ীরা সহায়তা করছেন। আমদানিকারকরা যে দামে পেঁয়াজ কিনছেন সে দামেই টিসিবিকে পেঁয়াজ দিচ্ছেন। ফলে টিসিবি ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছে।

তিনি বলেন, বাজারে সিন্ডিকেট বলে কিছু নেই। ব্যবসায়ীরা আমাদের বন্ধু মানুষ, তারা সহযোগিতা করছেন। মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপকে ধন্যবাদ। তারা সরকারকে সহযোগিতা করেছে। ধর-পাকড় করে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আমরা সবাইকে আপন করে নিয়ে পেঁয়াজ-সংকটের সমাধান করা হবে। 

আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এখন থেকেই নানা রকম পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আমদানিকারক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসবো।  সেখানে রমজানে যাতে ভোজ্যতেল-চিনিসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকে- সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এতদিন আমাদের ভারত-নির্ভরতা ছিল। এখন মিসর, আজারবাইজান, কাজাখিস্থান থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের সব দেশ থেকেই টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সরকার সচেষ্ট থাকবে। কৃষকদের উৎসাহ দেয়া হবে। 

তিনি বলেন, আকষ্মিক পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়ে ভারত আমাদের উপকারই করেছে। দেশটি গরু রফতানি বন্ধ করার ফলে আমাদের দেশে গরু লালন-পালন বেড়েছে। এখন ঈদের সময়ও আমাদের ভারতের গরুর প্রয়োজন হয় না। একইভাবে আমাদের কৃষক পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ালে আশা করি দু’বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজ আমদানি নয়- রফতানিও করতে পারবো।

ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কবে কমে আসবে- তা বলা মুশকিল। পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যাহত না হলে ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহ নাগাদ দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিসর, আজারবাইজান, পাকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এলসি খোলা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্লেনে ২৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ আমদানি করে আমরা ৪৫ টাকা দরে মানুষকে খাওয়াচ্ছি। আমাদের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে ভারত আকষ্মিকভাবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায়। মহারাষ্ট্রের নির্বাচন সামনে রেখে ভারত আকষ্মিকভাবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এজন্যই এই অবস্থা হয়েছে।

এইচএস/এসএমএম

আরও পড়ুন