• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০, ৪ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৯, ২০১৯, ০৯:০৬ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৯, ২০১৯, ০৯:০৬ এএম

ভারতে ডাবল সেঞ্চুরি পেঁয়াজের

দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, কলকাতা থেকে
ভারতে ডাবল সেঞ্চুরি পেঁয়াজের

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেছিলেন, আমার বাড়িতে পেঁয়াজ ঢোকে না। তাই পেঁয়াজের দাম নিয়ে আমি ভাবি না। অর্থমন্ত্রীর এ হেন দার্শনিকসুলভ মন্তব্যে ভারতের নানা অংশে সমালোচনার বন্যা বয়ে গিয়েছে বটে, কিন্তু তাতে কোনও হেলদোল এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি মোদী সরকারের। এর মধ্যে যা আশঙ্কা করা গিয়েছিল, সেই মতোই রোববার (৮ ডিসেম্বর) ভারতের একাধিক বাজারে পেঁয়াজ ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য এখনও কেজিপ্রতি ১৪০-১৬০ এর মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে পেঁয়াজের দাম।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে জানান হয়, সোমবার (৯ ডিসেম্বর) থেকে রাজ্যের সমস্ত রেশন দোকানে মিলবে পেঁয়াজ। প্রতি কিলো ৫৯ টাকা দরে পাওয়া যাবে সরকারি উদ্যোগে পেঁয়াজ।

গত ২ সপ্তাহ ধরেই পশ্চিমবঙ্গের একাধিক বাজারে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রির চেষ্টা শুরু হয়েছে। কোটা হিসাবে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। রাজ্য সরকারের স্বনিযুক্তি প্রকল্প ‘সুফল বাংলা’ এবং পৌরসভাগুলোর উদ্যোগে কলকাতা এবং জেলাগুলোতে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও ৬০ টাকা কোথাও ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। প্রতিটি জায়গাতেই মানুষ এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাইন দিয়ে সংগ্রহ করছেন পেঁয়াজ। তবে এই সব বাজারগুলোতে অঢেল পেঁয়াজ কেনার সুযোগ নেই। কোনও বাজারে মাথাপিছু এক কেজি, আবার কোনও বাজারে ৫০০ গ্রাম করে দেয়া হচ্ছে পেঁয়াজ।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) খাদ্য ভবনে পেঁয়াজ নিয়ে জরুরি বৈঠকের পর রেশন থেকে অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বিক্রির কথা জানিয়েছেন রাজ্যে মুখ্য কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার। বলা হয়েছে, পাইকারি বাজার থেকে ভর্তুকি দিয়ে পেঁয়াজ কিনে তা ৯৩৫টি আউটলেটের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর কাছে বিক্রি করা হবে। আরও বলা হয়েছে মহারাষ্ট্র বা কর্নাটক থেকে পেঁয়াজ পশ্চিমবঙ্গে আসা একদম বন্ধই হয়ে গিয়েছে গত দুই সপ্তাহে। মোদী সরকার বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে বলে জানানো হলেও সে পেঁয়াজ এখনও চোখে দেখা যায়নি।

রোববারেই তামিলনাড়ুতে পেঁয়াজের দাম কিলোয় ২০০ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে। মাদুরাই সহ একাধিক বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ২০০ টাকা কিলো। মাদুরাইয়ের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত দু’দিনে পেঁয়াজের দাম প্রতি কিলোয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের বিক্রি এই দু’দিনে প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে চলতি সপ্তাহেই অনেক জায়গায় বন্ধ করে দিতে হতে পারে পেঁয়াজের ব্যবসা। শুধু চেন্নাই নয়, পেঁয়াজের দাম ২০০ ছুঁয়ে ফেলেছে মহারাষ্ট্র্রের সোলাপুর বাজারেও। সেখানেও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কিলোয়। মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় রবিবার পেঁয়াজের সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৯০ টাকা।

মহারাষ্ট্র্রের নাসিক এলাকা থেকেই ভারতের বেশিরভাগ অংশে পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং তার সূত্র ধরে ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকার সময় মোদী সরকারের তরফে বলা হয়েছিল তুর্কি থেকে ১১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। সে পেঁয়াজ আদৌ ভারতে এসেছে কিনা বা কবে আসতে পারে, সে ব্যাপারে আম আদমি তো বটেই, প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের কাছেও কোনও খবর নেই।

ডিজিজি/এসএমএম

আরও পড়ুন