• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২০, ১২:০৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৬, ২০২০, ১২:০৫ এএম

প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণের শর্ত শিথিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণের শর্ত শিথিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

সরকারের সুদ ভতুর্কির আওতায় শিল্প ও সেবাখাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নেয়ার শর্ত শিথিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। একজন গ্রাহকের প্রাপ্য ঋণ একবারের পরিবর্তে এখন তিন বছরে নেয়া যাবে। এর মানে হলো, ২০১৯ সালের চলতি মূলধন ঋণ স্থিতির যে ৩০ শতাংশ তিনি পাবেন তা তিন বছর ধরে নিতে পারবেন। 

প্রথম বছরেই অধিক সংখ্যক গ্রাহককে ঋণ সুবিধা দেয়ার জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের নির্দশনায় আংশিক সংশোধনী এনে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শিল্প ও সেবাখাতের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণ বিষয়ে গত এপ্রিল মাসে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, এ প্যাকেজের মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে কোনও গ্রাহক এ প্যাকেজের আওতায় একবারের বেশি সুবিধা নিতে পারবেন না। এই নির্দেশনা সংশোধন করে তিন বছর ধরে সুবিধা নেয়া যাবে বলে নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ প্যাকেজ থেকে মোট ঋণের পরিমাণ কোনোভাবেই গত ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক চলতি মূলধন ঋণবাবদ মঞ্জুরি সীমার ৩০ শতাংশের বেশি হবে না। নতুন ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রেও চলতি মূলধন ঋণের ৩০ শতাংশের বেশি এ সুবিধার আওতায় দেয়া যাবে না। আর সাধারণভাবে এ প্যাকেজের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১ বছর। তবে প্রাপ্য ঋণের সমপরিমাণ অর্থ কোনও গ্রাহকের অনুকূলে এক বছরে দেয়া সম্ভব না হলে বাকি অর্থ আলোচ্য প্যাকেজের অবশিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ঋণ হিসেবে দেয়া যাবে। ব্যাংক থেকে যেভাবেই ঋণ দেয়া হোক (এককালীন অথবা প্যাকেজের মেয়াদে একাধিক বছরে প্রদত্ত হয়ে থাকলে) একজন গ্রাহকের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নির্ধারিত সীমার ওপর সুদ ভর্তুকি দেবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, শিল্প ও সেবাখাতের ঋণ প্যাকেজ থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল ও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য নতুন করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যসব নির্দেশনা অপরিবর্তি থাকবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। এতে করে কেউ এ তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে আগের ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না। আবার কোনো ব্যাংকের ঋণখেলাপি বা খেলাপি ঋণ তিনবারের বেশি পুনঃতফসিল করেছেন তারও সুবিধা পাবেন না।

করোনাভাইরাসে ক্ষতির প্রভাব মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন খাতের জন্য এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই প্রণোদনার বেশিরভাগই সরকারের সুদ ভতুর্কির আওতায় ব্যাংকগুলো ঋণ দেবে। এর মধ্যে শিল্প ও সেবাখাতে চলতি মূলধন ঋণ দেয়ার জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো এই ঋণের বিপরীতে ৯ শতাংশ সুদ পাবে। এই সুদের অর্ধেক তথা সাড়ে ৪ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ গ্রাহক থেকে আদায় করা হবে। আর ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করতে হবে। এর বিপরীতে ১৫ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন পাবে ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে, শিল্প ও সেবাখাতে একটি প্রতিষ্ঠানের ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যে পরিমাণ স্থিতি থাকবে তার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ সুদ ভর্তুকির আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে। আর নতুন গ্রাহকের ক্ষেত্রে একশ টাকা অনুমোদিত হলে তার মধ্যে ৩০ টাকা এই সুবিধার আওতায় দেওয়া যাবে। বাকি ৭০ টাকার বিপরীতে পুরো সুদ গ্রাহক থেকে আদায়যোগ্য হবে। সমকাল।

এসএমএম

আরও পড়ুন