• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২২, ০৯:২৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১, ২০২২, ০৩:২৭ পিএম

রপ্তানি কমবে না, দুশ্চিন্তার কিছু নেই: অর্থমন্ত্রী

রপ্তানি কমবে না, দুশ্চিন্তার কিছু নেই: অর্থমন্ত্রী
ফাইল ফটো।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার সাফল্য উদযাপন করবে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশেষ উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।

এ উদযাপন সামনে রেখে শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরে যেসব ভয়ের কথা বলা হচ্ছে, বিশেষত রপ্তানি কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর কিছুই হবে না। কারণ বাংলাদেশের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সবক্ষেত্রেই এখন ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ নীতি চলছে। বাংলাদেশও ব্যবসা-বাণিজ্যে এই নীতিতে চলে যাবে। চ্যালেঞ্জগুলোকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
 
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। গত বছরের ৮ জুন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সিডিপির সুপারিশ অনুমোদন করে। সবশেষ গত ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে সিডিপির সুপারিশ চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এর ফলে ২০২৬ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করবে।

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেশের জন্য বড় অর্জন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার পথে একটি বড় অর্জন। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন থেকে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসী ও প্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল থেকে।

দেশের অগ্রগতির সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না, এ অবস্থায় উত্তরণ টেকসই হবে কি-না- এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সব দিক বিশ্নেষণ করেই এই স্বীকৃতি দিচ্ছে। এছাড়া সরকারও মনে করে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। সরকার জাতির কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে রূপান্তর হবে। আর এসব ঘটবে কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সবাইকে নিয়ে এগোবে বাংলাদেশ। অন্তর্ভুক্তিমূলক সাম্য নিশ্চিত করে উন্নত দেশে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার। সরকারের লক্ষ্য ২০৪১ সালে বিশ্বের বৃহত্তম ২০টি অর্থনীতির একটিতে রূপান্তরের।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, মূল্যস্ফীতি সারাবিশ্বেই আছে। বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে মূল্যস্ফীতির হার গড়ে ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ওঠা-নামা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৯টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হবে উদযাপন অনুষ্ঠান। এতে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। তাদের মতামত তুলে ধরবেন। এছাড়া কয়েকজন মন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।


 

এসকেএইচ//