• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০১৯, ০৪:৪৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২, ২০১৯, ০৪:৪৯ পিএম

ভিসি’র পদত্যাগ দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর

বরিশাল সংবাদদাতা
ভিসি’র পদত্যাগ দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এ সময় ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

চলমান আন্দোলন কর্মসূচির অষ্টম দিন মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় মাথায় ফিতা বেঁধে ও ভিসি’র পদত্যাগ দাবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড নিয়ে ভিসি বিরোধী শ্লোগানসহ ভিসি’র পদত্যাগ দাবিতে সকাল থেকে গণ স্বাক্ষর গ্রহণ করেন আন্দোলনরতরা। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক এর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কার্যক্রম কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে আন্দোলনের ৭ম দিন সোমবার (১ এপ্রিল) শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। ওই স্মারকলিপির মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলে বলেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে আমরা যদি রাজাকারের বাচ্চা হয়ে থাকি তবে আমাদের অভিভাবক ভিসি। তবে কি তিনি রাজাকার ?

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের এক দফা এক দাবি। তা হলো ভিসি’র অপসারণ। তিনি রাজাকারের বাচ্চা বলে শিক্ষার্থীদের যে গালি দিয়েছেন সে জন্য অবশ্যই তাকে স্ব-শরীরে এসে ক্ষমা চাওয়াসহ তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। এ সময়  শিক্ষার্থীরা হুশিয়ারী উচ্চরণ করে বলেন, ভিসিকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় দেয়া হয়েছে। যার ২৪ ঘণ্টা কেটে গেছে। বাকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে আরো কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা আল্টিমেটাম দিতেই পারে। তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমাকে যদি প্রধানমন্ত্রী বলেন পদত্যাগ করতে তবেই আমি পদত্যাগ করবো। আর নয়তো কোনো আন্দোলনই আমাকে আমার এই পদ থেকে পদত্যাগ করাতে পারবে না।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তারপরেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো কারন দেখছি না। তাদের দিয়ে একটি গোষ্ঠি বা একটি চক্র আন্দোলন করাচ্ছে। তাদের আন্দোলনে অর্থের যোগান দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে আন্দোলন করিয়ে ওই গোষ্ঠি ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তাই ওই চক্রের বিরুদ্ধে লেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এজন্য উপাচার্য এসএম ইমামুল হক ক্ষুব্ধ হয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে আন্দোলনরতদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তার এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। ২৬ মার্চ বিকাল থেকেই জোরদার আন্দোলন শুরু করেন তারা। এরপর ২৮ মার্চ রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। কিন্তু হল ত্যাগের ঘোষণা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা টানা অষ্টম দিনের মত আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উপাচার্য ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। কিন্তু তার ওই বক্তব্যকে মিথ্যাচার বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর গত ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকল হলের ডাইনিং বন্ধ করে দেন।

এসসি/