• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: মে ১৭, ২০১৯, ১২:২১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৭, ২০১৯, ০৬:২৪ পিএম

জবিতে তদন্ত কমিটিতেই বিচার শেষ!

জবি প্রতিনিধি
জবিতে তদন্ত কমিটিতেই বিচার শেষ!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভন্ন সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে থাকে। আর এই ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় দেখা যায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ‘ক্যাম্পাসে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে লোক দেখানোর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কোনো বিচার না হয়েই তদন্ত কমিটিতেই সব বিচার শেষ বলে জানায়।’ অর্থাৎ প্রতিবারই শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় সারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্বাবদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক হালিম প্রমানিকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীর করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় হালিম প্রামানিককে দুই বছরের জন্য পদোন্নতি আটকে দেয়াসহ তিরস্কার করে শাস্তি দেয়া হয়। কিন্তু অপরাধের সঙ্গে শাস্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ৩০ এপ্রিল ঘটনা পুনঃতদন্ত করে কঠোর শাস্তির দাবিতে উপাচার্য বরাবর চিঠি দেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। পরবর্তীতে ওই দুই নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরও কয়েকটি যৌন হয়রানিমূলক অভিযোগ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ৭৭তম সিন্ডিকেটে নেয়া সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১/১০ ধারা অনুযায়ী উপাচার্যের নিজস্ব ক্ষমতা বলে বাতিল করা হয়। হালিম প্রমানিকের সাময়িক বহিষ্কার বহাল রাখা হয়। পরে ঘটনাগুলো সম্পর্কে অভিযোগকারীদের আনিত সব প্রকার অভিযোগ তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়া হয়। কিন্তু সে কমিটি এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে নাকি দেয়নি তা কেউ জানে না।

এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিনভর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি লতিফুল ইসলাম, দৈনিক সংবাদের রাকিবুল ইসলাম, খবরপত্রের সোহাগ রাসিফের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর অভিযোগ দেন তারা। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনকে।

গত ৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবমাননাকর পোস্ট দেয়ায় বাংলা বিভাগের ফরহাদ হোসাইন ফাহাদ নামে এক শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামিক শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা) এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় ফরহাদকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানায় তারা। 

এর কিছুক্ষণ পর ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তুলে পাল্টা মিছিল করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়কে মৌলবাদের আগ্রাসনমুক্ত করার দাবিতে মিছিল বের করেন তারা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের ভবনের সামনে সমাবেশে মিলিত হলে একদল তরুণ সেখানে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং তাতে কয়েকজন আহত হন বলে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাদের অভিযোগ। এতে দুই নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৮ জন আহত হন বলে জানান প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা। ঘটনার পরপরই হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় লোক দেখানোর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে। কোন শাস্তি হয় না। কোন রকম কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে দায় সারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটিতেই সব বিচার শেষ।’

সাংবাদিক মারধরের ঘটনা এবং বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.নুর মোহাম্মদ বলেন, এই ঘটনাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই আমরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিব।

শিক্ষক হালিম প্রমানিকের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, হালিম প্রামানিকের ঘটনায় আমরা তিন অনুষদের ডিন,অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একজন এবং অভিযোক্ত শিক্ষকের পক্ষ থেকে একজনকে দিয়ে ৫ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছিলাম। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন জমা দিবে।

টিএফ
 

Space for Advertisement