• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, ০৯:৪৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, ০৯:৫২ পিএম

আইটি জটিলতা

নির্ধারিত সময়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে শঙ্কায় ইসি

হাসান শাফিঈ
নির্ধারিত সময়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে শঙ্কায় ইসি

‘‘৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য নিবন্ধন ৯০ লাখ ৬৬ হাজার ১০৫ জনের। খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় এ সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে’’

আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জটিলতা কাটিয়ে কবে তালিকা প্রকাশ করা হবে— তা নিয়ে রীতিমতো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ভোটার তালিকা আইনে রয়েছে- কম্পিউটার ডেটাবেইজে সংরক্ষিত বিদ্যমান সকল ভোটার তালিকা প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে হালনাগাদ করে তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এবার আইন অনুযায়ী তা প্রকাশ করতে পারছে না ইসি।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর দৈনিক জাগরণকে বলেন, ২ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব যাবে না। ইসির আইটি সেকশনে কিছু সমস্যা হয়েছিল। ফলে যথাসময়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়তো সম্ভব হবে না।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম দৈনিক জাগরণকে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবার ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা এবং ৩১ জানুয়ারি  চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরিকল্পনা রয়েছে ২০ জানুয়ারি খসড়া এবং ১ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার। সেজন্য বর্তমান ভোটার তালিকা আইনের সংশোধন আনতে এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালযে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ইসির এনআইডি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এবারকার হালনাগাদে (১৫-১৮ বছর বয়সী) ৪ বছরের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম— এ রকম নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবার। এর মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদের নাম ২০২০ সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাদের বয়স এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

সূত্র মতে, বুধবার (৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ৯০ লাখ ৬৬ হাজার ১০৫ জন নতুন নাগরিকের তথ্য নিবন্ধন করেছে ইসি। তবে খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় এ সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে।

কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ’ বিষয়ক কমিটি যে প্রস্তাব করেছে সেখানে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ২ জানুয়ারি কিংবা ২০ জানুয়ারি কোনওটাই রাখা হয়নি। বরং সুপারিশ করা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি খসড়া প্রকাশ, ১৬ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি দাবি, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি দাবি নিষ্পত্তি, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি সিডি প্রস্তুত এবং ১ মার্চ ভোটার দিবসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।

ইসি কমিটি ১০ অক্টোবরের (বৃহস্পতিবার) বৈঠকে ভোটার তালিকা নিয়ে যেসব প্রস্তাব করেছে তাতে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ভোটার তালিকা আইনে খসড়া প্রকাশের যে তারিখ উল্লেখ রয়েছে, তা তুলে দিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত তারিখে ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষমতা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন সহায়তা- ২ শাখাকে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত। এছাড়া এ বছর চলমান হালনাগাদের খসড়া ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ২ জানুয়ারি ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করে ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার বিধান রয়েছে।

এনআইডি মহাপরিচালক জানান, ইসির পরিকল্পনায় রয়েছে ২০ জানুয়ারি খসড়া ও ১ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা। এরও আগে কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটির সুপারিশ রয়েছে ১৫ জানুয়ারি খসড়া প্রকাশ ও ১ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা।

সেক্ষেত্রে কবে খসড়া ও কবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছে ইসি কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ইসির আইন সংশোধনের প্রস্তাব বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি মন্ত্রিসভা হয়ে সংসদে আসবে। সেক্ষেত্রে সময়েরও ব্যাপার রয়েছে। ইসির হাতে সময় খুব বেশি নেই। এমতাবস্থায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে কার্যত ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে কমিশন।  

জানা যায়, ২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। প্রথমবারের মতো ৮ কোটি ১০ লাখের বেশি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত হয়। এরপর থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ ও মৃতদের বাদ দেয়াসহ হালনাগাদ কাজ চলে। ২০০৯, ২০১২, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে হালনাগাদ করা হয়।

দেশে বর্তমানে ১০ কোটি ৪২ লাখের মতো ভোটার রয়েছে। এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের ব্যয় ধরা হয় ৮২ কোটি টাকা। সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হয়েছিল গত ২৩ এপ্রিল।

এইচএস/এসএমএম

আরও পড়ুন