• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২০, ০৯:২৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৩, ২০২০, ০৯:৪২ এএম

ঢাকা দুই সিটি নির্বাচন 

অন্তর্কোন্দল চরমে, প্রচারণায় উত্তপ্ত পাড়া-মহল্লা

হালিম মোহাম্মদ 
অন্তর্কোন্দল চরমে, প্রচারণায় উত্তপ্ত পাড়া-মহল্লা

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বড় দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। এছাড়া জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে মূলত এই দুই দলের প্রার্থীদের ঘিরেই রয়েছে সমর্থকদের জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ।

সিটি নির্বাচনি প্রচারণায় গত ৩ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ঘটনা ঘটেছে। যা সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোববার মিরপুরে বিএনপির সর্মর্থিত রাজধানীর উত্তরের মেয়র প্রাথী তাবিথ আউয়ালের জনসংযোগের সময় মারমারির ঘটনা দিয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করে।

এছাড়া বিএনপি সমর্থিত দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাকের জনসংযোগের সময় পুরান ঢাকা থেকে পুলিশ ৪ জন কর্মীকে আটক করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় মিছিলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

পাশাপাশি রাজধানী হোসেনী দালান এলাকার বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সাহিদা মোর্শেদের জনসংযোগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী তামিম আবদুল আজিজের লোকজন বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ করে বাসায় চলে যান বলে জানান সাহিদা মোর্শেদ। এছাড়াও রাজধানীর একাধিক স্থানে বিএনপির ও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীদের লোকজনের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে যোগ্য প্রতিনিধিকে বিজয়ের আসনে দেখতে প্রার্থীদের ভাল-মন্দের আমলনামায় চোখ রাখছেন সাধারণ ভোটাররা। এখন থেকেই হিসাব কষা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল প্রার্থীই তাদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে পাড়া-মহল্লায় শো ডাউন শুরু করেছেন।

এলাকার প্রবীণ রাজনীতিবিদরা জানান, মহানগরে কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থিতা নিয়ে ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে ও পাড়া-মহল্লায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেলায় যতটা কোন্দল দেখা যায় তার চেয়েও বেশি দেখা যাচ্ছে বিএনপির বেলায়।

অন্যদিকে ত্যাগের অবমূল্যায়ন, মনোনয়ন বাণিজ্য আর মেয়র প্রার্থীদের নিজস্ব বলয় গড়ে ওঠার কারণে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। একদিকে দলটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতায় জয়ের আশার গুড়ে বালি হতে পারে বলে খোদ নেতা-কর্মীদেরই শঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪টি ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ১৮টি। আর দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ২৫টি। ঢাকা উত্তর সিটির মোট ভোটার ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন ও দক্ষিণে ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন।

নির্বাচন কমিশন গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ৩১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা এবং মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। ইসি প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছেন। পাশাপাশি প্রাথীদের মার্কাও প্রদান করেছেন। ঢাকা দুই সিটি নির্বাচন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জানুয়ারি।

এইচএম/একেএস