• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ০২:৫০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ০২:৫৬ পিএম

প্রতিজ্ঞা করছি, সুখে দুঃখে পাশে থাকবো : ইশরাক

জাগরণ প্রতিবেদক
প্রতিজ্ঞা করছি, সুখে দুঃখে পাশে থাকবো : ইশরাক
নির্বাচনী প্রচারণায় ইশরাক হোসেন - ছবি: জাগরণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘প্রতিজ্ঞা করছি, সুখে দুঃখে আপনাদের পাশে থাকবো।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ত্রিমোহনী বাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ কালে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি গণসংযোগ শুরু করেন। 

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক বলেন, গত ১৩ বছরে দেশকে তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই, কারো কথা বলার অধিকার নেই। উন্নয়নের নামে ধোয়া তোলা হচ্ছে কিন্তু আমরা কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না। ঢাকা আজকে সবচেয়ে দূষিত ও বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ১ নাম্বারে আসে। এই এলাকায় আসার সময় দুই পাশের যে জলাশয়, রাস্তা-ঘটের করুণ দশা দেখেছি, তা দেখে সত্যিই খারাপ লেগেছে। এই সরকার বলে তারা উন্নয়ন করেছে,স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে, অমুক সেতু, তমুক সেতু। কিন্তু এগুলো সবই আসলে দূর্নীতির প্রজেক্ট। মেগা প্রজেক্ট তারা করছে, সেখান থেকে লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে আরাম আয়েশে তারা ফুর্তি করছে। আর আর বাংলাদেশের আমরা যারা সাধারণ জনগণ, নাগরিকরা রয়েছি, তাদের দিন দিন আমাদের দূরদশসা বেড়েই চলেছে।

‘আমি আপনারদের কাছে প্রতিজ্ঞা করতে চাই, আগামী ৩০ তারিখে যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, সেখান থেকে আমরা আপনাদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে আমরা রয়েছি, সেটাকে চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছানোর জন্য কাজ করবো। এবং আপনাদের কাছে কাছে প্রতিজ্ঞা করছি, আপনাদের সুখে দুখে সব সময় পাশে থাকবো। এবং এই এলাকার উন্নয়নে যতো যা কিছু দরকার আছে, আমি আমার রক্ত, ঘাম, দিয়ে পরিশ্রম করে এই এলাকা কে উন্নত ও পরিবেশ দূশনমুক্ত করতে সকল কিছু করবো।’


তিনি বলেন, সিটি নির্বাচন আমি ইশরাক হোসেনের লড়াই নয়, এটা ধানের শীষের লড়াই, জনগণের লড়াই, গণতন্ত্রের লড়াই। আপনারা সেই লড়াইয়ে শরিক হবেন। ইনশাআল্লাহ ৩০ তারিখে ভোট দিবেন। আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করবো।ইনশাআল্লাহ আপনাদের অধিকার, কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনবো আমি।

৩০ তারিখে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের একটি উৎসব রয়েছে, এ বিষয়ে তার মন্তব সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই এই বিষয়টা গুরুত্বে সাথে দেখা উচিৎ। আমারা মুসলমানরা, আমাদের যদি ওইদিন ঈদ থাকতো তাহলে অবশ্যই চাইতাম না ওই দিন ভোট হোক। তো উনাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে আশা করছি। আর এটা কোর্ট আর ইলেকশন কমিশন মিলে সিদ্ধান্ত নিবেন। 

লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা ফিল্ড তৈরি হচ্ছে সেটা হচ্ছে ভোট ডাকাতির ফিল্ড। কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। এক তরফা ফিল্ড তৈরি হচ্ছে। 

আপনাদের সাথে সরকার ও প্রতিদন্দীরা কি ধরণের আচরণ করছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে আমি যদি এসব কথা বলি, তখনই সরকার দলীয় নেতারা বলেন, বিএনপি অভিযোগের দল, নালিশ পার্টি ইত্যাদি। আমরা আর অভিযোগ নালিশ করতে চাই না। আমরা শুধু এতোটুকু বলতে চাই, জণগন আমাদের সাথে রয়েছে। আমরা তাদের শক্তি নিতে এগিয়ে যাবো। কারো কোনো বাধা আমরা মানবো না। কোনো নালিশ কাউকে দেবো না। মহান আল্লাহতালা উপরে আছেন, উনি দেখছেন, আর নিচে আমাদের জনগণ, আমাদের শক্তি জনগণ। 

ধানের শীষ এর পোস্টার কম দেখা যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। যারা পোস্টার লাগাতে যাচ্ছে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, মারধোর করা হচ্ছে। এবং এমনও হুমকি দেওয়া হচ্ছে পোস্টার লাগাতে আসলে থানা পুলিশে দিবে। পোস্টার লাগানো কি অপরাধ? এটা তো অপরাধ নয়, তাহলে কেনো থানা পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেওয়া দিবে? আপনারা জানেন দেশে একটা অপশাসন, স্বৈরশাসন চলছে, একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। 

গণসংযোগে বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস সহ স্থানীয় বিএনপির নেতা, ছাত্রদল, যুবোদল, মহিলাদল, সেচ্ছাসেবক দলসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত রয়েছে। গণসংযোগে এলাকাবাসীর  সঙ্গে  কুশলবিনিময়, ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করেন।
 
টিএস/বিএস