• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ০৯:০১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ০৯:০১ এএম

লেনদেনের ভিত্তিতে পদোন্নতি-বদলির অভিযোগ ডিপিডিসিতে 

জাগরণ প্রতিবেদক
লেনদেনের ভিত্তিতে পদোন্নতি-বদলির অভিযোগ ডিপিডিসিতে 
ডিপিডিসি‍‍`র লোগো

আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে ২৮ জনকে পদোন্নতি ও বদলির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন (ডিপিডিসি) কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ রয়েছে, বদলি হওয়া প্রকৌশলীদের মধ্যে অনেকই আছেন যাদের বদলির এক বছরও হয়নি। স্বাভাবিকভাবে তিনবছর পরই বদলি করা হয়ে থাকে। আবার অনেকে বছরের পর বছর একই জায়গায় চাকরি করছেন, তাদের বদলি করা হয়নি। এ অবস্থায় সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অনিয়ম থেকে পরিত্রাণ পেতে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশল সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা অনিয়মের সুরাহা না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।  

এসব বিষয়ে ডিপিডিসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান দৈনিক জাগরণকে বলেন, পদোন্নতি বা বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরণের অনিয়ম হয়নি। কোম্পানির আইনে যেভাবে বলা আছে আমরা সেভাবেই কাজ করেছি। তিনি বলেন, একটি মহল সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। এছাড়া এসব বিষয়ে তো সবাইকে খুশিও করা সম্ভব হবে না। 

সূত্র মতে, গত ৮ আগস্ট মধ্যরাতে এক প্রজ্ঞাপনে ২১ জন নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর পূর্ণবন্টন এবং আরেক প্রজ্ঞাপনে ৭ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত ত্বত্তাবধায়ক (এসি) প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এই ৭ জন পদোন্নতি প্রাপ্তদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে সিনিয়রিটি লঙ্ঘণের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ডিপিডিসিতে পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে এসব অভিযোগ নতুন কিছু নয়। গত কয়েকবছর ধরে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে ডিপিডিসি ডিপ্লোমা প্রকৌশল সমিতির নেতারা। এবার আবারও আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন। গত ১৮ আগস্ট  ডিপ্লোমা প্রকৌশল সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক লিখিত অভিযোগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেছেন, দ্রুত অনিয়মের কোনো সুরাহা না হলে উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। 

ডিপিডিসির এইচআর দফতর সূত্র জানায়, সংস্থাটির উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি)  মো. আরফান আলী চাকরিতে যোগদানের সময় অনুযায়ী পদোন্নতি যোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় তার নাম রয়েছে ২৪ নম্বরে। ২৩ জনকে ডিঙ্গিয়ে গত ৮ আগস্ট তাকে রাজধানীর মুগদা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। 

এদিকে, গত কয়েক মাস আগে ডিপিডিসির মাতুয়াইল ডিভিশনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনিরকে মাদক সেবনের অভিযোগে কাঁটাবন স্ক্যাডায় বদলি করা হয়।
 
সূত্রটি জানায়, সংস্থাটির মেডিকেল বিভাগ থেকে মাদক সেবনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাকে বদলি করা হয়েছিল।  আলোচিত এই নির্বাহী প্রকৌশলীকে এখন আবার ডিপিডিসির শ্যামলী ডিভিশনে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহক হয়রানী ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিস্পত্তি না করেই প্রাইজ পোস্টিং হিসেবে বদলি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ পূর্ব ডিভিশনের মত গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমার সার্ভিসে।
 
সূত্র জানায়, ঐ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাব অ্যাসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ফাত্তাহ এবং অভিযুক্ত গোলাম মোর্শেদের ড্রাইভার আরব আলী মুন্সি এখনও বরখাস্ত রয়েছেন।  সূত্র আরও জানায়, বাসাবো, আদাবর, মানিকনগর, শীতলক্ষ্যা, কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে যোগ্যতা সম্পন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীদের পারফরম্যান্স ভালো থাকার পরও সুকৌশলে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যাদের ঐ ডিভিশনগুলোতে চাকরির সময়সীমা এক বছরও হয়নি। অথচ ডিপিডিসির বিভিন্ন কাষ্টমার সার্ভিসে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে যারা বছরের পর বছর একই ডিভিশনেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, শ্যামপুর ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী  মো. আকরাম  হোসেন গত প্রায় দশ বছর ধরে একই ডিভিশনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের বেশি একই জায়গায় থাকার কোন নিয়ম নেই। সংস্থাটির প্রশাসন বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, ডিপিডিসিতে ৩৬টি ডিভিশনের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন যারা চাকরির শুরুটাই যেখানে করেছিল সেখানেই বহাল তবিয়তে এখনও রয়েছেন। বাসাবো ডিভিশনের সেলিম, জসিম, নুরুজ্জামান ও বেবি। খিলগাঁও ডিভিশনের মশিউর, হাজী আব্দুর রশিদ ও শিবু। বনশ্রী ডিভিশনের নুরে আলম, শাহ আলম, স্টোর কিপার জহির ও শাহনেওয়াজ পারভীন। মুগদা ডিভিশনে রয়েছেন ময়ফুল, বাহাদুর ও সুলতান। মানিকনগর  ডিভিশনে রয়েছে সাজেদুল করিম ও প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোওয়ারী।  সংস্থাটির পরিচালক ( অপারেশন ) এর দপ্তরে আকতার এবং  সংস্থাটির পরিচালক ( প্রকৌশল ) দপ্তরের সজল। 

সূত্র জানায়, গ্রাহক হয়রানী ও অসদাচারণে অভিযুক্ত শ্যামপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব ও সাব অ্যাসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার শাহদাত এখনও শ্যামপুর ডিভিশনের দায়িত্বে রয়েছেন। আর অন্যদিকে একাধিক গ্রাহক হয়ারানীর অভিযুক্ত বনশ্রী ডিভিশনের সাব অ্যাসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর এখনও রয়েছে বহাল তবিয়তে।  

সূত্রমতে, ২১ জনকে বদলি এবং ৭ নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভারপ্রাপ্ত (এসি) তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়ায় সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন) এটি এম হারুন অর রশীদ, ডিপিডিসর পরিচালক (প্রশাসন) জয়ন্ত কুমার শিকদার এবং প্রধান কার্যালয়ের ক্রয় ও চুক্তি বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুর্তজার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সূত্রটি জানায়, এদের যোগসাজসে বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। 

সংস্থাটির  পরিচালক (প্রশাসন) জয়ন্ত কুমার শিকদার দৈনিক জাগরণকে বলেন, গত ৫/৬ মাসে ডিপিডিসিতে কোনো পদোন্নতির ঘটনা ঘটেনি। যেগুলো হয়েছে সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাই আমাকে এতো কিছু কেন জিজ্ঞেস করছেন? আপনি এমডির সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম হলেও আমি আপনাকে কেন বলব?

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডিপিডিসির বোর্ড চেয়ারম্যান শফিক উল্লাহ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। একটি পক্ষ লিখিতভাবে অভিযোগও করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।

টিএস/বিএস 

আরও পড়ুন