• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯, ০৭:৫৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯, ০৭:৫৫ পিএম

‘সংসদ সদস্যদের কারণে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন সম্ভব হয় না’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘সংসদ সদস্যদের কারণে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন সম্ভব হয় না’

সংসদীয় কমিটির অভিযোগ

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংসদ সদস্যরা বাধা দেন বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সংসদ সদস্যদের দায়ী করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৭ম বৈঠকে তিনি বলেছেন, তাদের কারণে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি গাজীপুর জেলাতেও এই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৭ম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের ওপর এমন অভিযোগ আনেন প্রতিমন্ত্রী।

শহীদুজ্জামান সরকারে সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আলী আজগার, নূরুল ইসলাম তালুকদার, আসলাম হোসেন সওদাগর, খালেদা খানম ও বেগম নার্গিস রহমান অংশ নেন।

অবৈধ গ্যাস এবং বিদ্যুতের সংযোগ চিহ্নিত করে তা বিচ্ছিন্নের জোর সুপারিশ করা হয় বৈঠকে। 

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার গণমাধ্যমকে জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কমিটি বলেছে- সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকেই হোক বা অন্য কোন রাজনৈতিক চাপ হোক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, ‘সরকারি মালিকানাধীন ছয়টি গ্যাস কোম্পানির মধ্যে চারটি কোম্পানি এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ৯৩৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এ সময় ৩০৭ কিলোমিটার গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগেরও প্রায় সিংহভাগই আবাসিক খাতের। আবাসিকের ৯৭ হাজার ৮৩টি চুলা এ সময় বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাকিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক খাতের ২০২টি, শিল্প খাতের ৮৭ টি, সিএনজি ২২ টি এবং ক্যাপটিভ সংযোগ ৪১টি।

বৈঠকে জানান হয়, ২০২০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। ৯৬% জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ দেয়া হবে। বৈঠকে গ্যাসের সিস্টেম লসের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনার পাশাপাশি সিস্টেম লস এর স্ট্যান্ডার্ন্ড নির্ধারণ করে দেয়ার সুপারিশ করে।

বৈঠকে পেট্রোবাংলার গ্যাস বিপণন কোম্পানিসমূহের বিদ্যমান সিস্টেম লস হ্রাসকরণে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা হয় এবং সিস্টেম লস সামগ্রিকভাবে না দেখিয়ে আলাদা আলাদাভাবে দেখানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে অগভীর ও গভীর সমুদ্রসহ দেশে তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় এবং এ সকল সম্পদ সম্পর্কে যথাযথ সমীক্ষা পরিচালনার মাধ্যমে যাতে এগুলো জনকল্যাণে কাজে লাগানো যায় সেজন্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কমিটি দেশের সকল স্থানে সম-পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপশোর গ্যাস আহরণে আরও বেশি কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়। 

বৈঠকে সারাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সংসদীয় কমিটির সদস্যদের গ্যাস ও বিদ্যুতের স্থাপনাসমূহ পরিদর্শনের জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিমসহ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচএস/এসএমএম

আরও পড়ুন