• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ০১:৫৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ০২:০৭ পিএম

রায়ের আগেই অনুদান প্রদান ও শুটিং শুরু!

সুহৃদ জাহাঙ্গীর
রায়ের আগেই অনুদান প্রদান ও শুটিং শুরু!

চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য গত অর্থবছরে সরকারি অনুদান পেয়েছেন ১৪ জন নির্মাতা। ইতিমধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষে অনুদানের অর্থ গ্রহণ করেছেন তারা।  খুব শিগগিরই শুটিংয়ে যাচ্ছেন তাদের কয়েকজন। অথচ গত অনুদান প্রদানে অনিয়ম হয়েছে উল্লেখ করে আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।

রিটের প্রেক্ষিতে গত ৩১ জুলাই রুল জারি করেছেন আদালত। রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। এরই মধ্যে নিজেদের প্রথম চলচ্চিত্রের প্রি-প্রোডাকশনের কাছ গুছিয়ে নিয়েছেন কয়েকজন নির্মাতা। গান রেকর্ডিং করেছেন, লোকেশন নির্বাচন করেছেন ও শিল্পী কাস্টিং চলছে। শুটিং শুরু করা হবে খুব শিগগিরই।

আদালতে বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। তাহলে আপনি কিভাবে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ‘রাত জাগা ফুল’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা মীর সাব্বির বলেন, ‘আমাদের নির্মাণের ব্যাপারে তো কোনো আপত্তি থাকার কথা না। কারণ আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়ে গেছে।প্রথম কিস্তির টাকাও পেয়েছি।আর কারা রিট করেছেন বা কেন করেছেন সেটা সরকার বুঝবে। নিয়ম অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’ 

‘নসু ডাকাত কুপোকাত’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা আবু রায়হান মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী অনুদানের প্রথম কিস্তির টাকা আমি পেয়ে গেছি। তাই আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। রিটের ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কোনো কথাই হয়নি। তাই ওটা আমাদের জন্য বাধা হবে নাকি সহজ হবে তা আমরা জানিই না। আমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজ গুছিয়ে এনিছি। লোকেশন নির্বাচন করেছি, কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। এখন বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষার অপেক্ষায় আছি। ইচ্ছা আছে ডিসেম্বরেই শুটিং করার।’

এ ব্যাপারে রিটকারিদের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘রুলের জবাব দেয়ার কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে বিষয়টি সুরাহা হওয়ার আগে কোনো নির্মাতা কাজ শুরু করতে পারবেন কিনা, সেটা নির্ভর করে সরকারের পদক্ষেপের ওপর। কারণ, হাইকোর্টে বিচারাধীন জেনে অনেক সময় তারা নিজেরা মনে করে আমাদের প্রসিড করা ঠিক হবে না। আবার অনেকে মনে করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোর্ট স্টে অর্ডার না দিবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা আটকানোর কিছু নেই। সুতরাং এটা নির্ভর করে যারা এটার দায়িত্বে আছে তাদের ওপর।’

অনুদান কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন ইউসুফ, মামুনুর রশীদ, ড. মতিন রহমান ও মোরশেদুল ইসলাম

একই বিষয়ে জানতে চাইলে অনুদান কমিটির সদস্য নির্মাতা মতিন রহমান ও মোরশেদুল ইসলাম বলেন, এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই। তথ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে যথাযথ সিদ্ধান্ত দেবে। রুলের জবাব দেয়া প্রসঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান গাজী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় সরাসরি রুলের জবাব দিতে পারে না। আমরা সেন্সরবোর্ডকে লিখি, সেন্সরবোর্ড জবাব তৈরি করে আমাদের কাছে পাঠায়। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর করে আমরা আদালতে জবাব দাখিল করি। এরমধ্যে হাইকোর্টে হাজির হয়ে আমরা সময় চেয়েছি। আশা করি, ওই সময়ের মধ্যেই আমরা জবাব দাখিল করবো।’ 

আদালতে সুরাহা হওয়ার আগে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রসঙ্গে এ আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘লিগ্যাল বিষয় তো, তাই হাইকোর্টের আদেশ এবং সর্বশেষ অবস্থা না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে ভালো হয়।’ একই বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র-১ শাখার উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে অনুদান নীতিমালায় কিছু লেখা নেই। রিটের বিষয়টি আমি পত্রিকায় জেনেছি। তাই এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। তাছাড়া আমি বদলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’

২০১৮-১৯ অর্থবছরে চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান প্রদানে অনিয়ম হয়েছে উল্লেখ করে আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছেন চলচ্চিত্র গবেষক ও লেখক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদানের জন্য আবেদনকারী অদ্রি হৃদয়েশ, চলচ্চিত্র নির্মাতা সুপিন বর্মণ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা খন্দকার সুমন। রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম।

অনুদানপ্রাপ্তদের কয়েকজন সারা বেগম কবরী, মীর সাব্বির, হৃদি হক ও শমী কায়সার

ওই রিটের প্রেক্ষিতে গত ৩১ জুলাই বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে উন্নতমানের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা-২০১২ (সংশোধিত) ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নিয়মাবলি-২০১২ (সংশোধিত) উপেক্ষা করে ১৪ চলচ্চিত্রকে অনুদানে ওই তিন সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

তিনটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উপ সচিব, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির সদস্য সচিব এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির সদস্য সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এসজে

Islami Bank