• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১৫ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২০, ০৩:৩৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৪, ২০২০, ০৩:৫৫ পিএম

সাক্ষাৎকার

দেশের সিনেমা যেন হুমকিতে না পড়ে: তারিক আনাম খান

দেশের সিনেমা যেন হুমকিতে না পড়ে: তারিক আনাম খান

দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা তারিক আনাম খান। যদিও এই পুরস্কার অর্জনের কৃতিত্ব তিনি একা নিতে চান না। কৃতিত্ব দিতে চান আবার বসন্ত ছবির পুরো ইউনিটকে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি পুরস্কার কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দেয়। 

জাগরণের সাথে আলাপকালে তারিক আনাম খান পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি, ক্যারিয়ার এবং চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে মনের আগল খুলেছেন। 


অর্জনের ঝুলিতে দ্বিতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত, তাই নয় কী?
একদম তাই। পুরস্কার পেলে কার না ভালো লাগে! আমি প্রচণ্ড রকম উচ্ছ্বসিত বলা যায়। তবে এই কৃতিত্ব শুধু আমার একার নয়। আবার বসন্ত ছবির পুরো ইউনিটের সাথে আমি এই পুরস্কার ভাগাভাগি করে নিতে চাই। একা কোনো মানুষ সফল হতে পারে না। আমি আমার ইউনিটের সহযোগিতায় ভালো অভিনয় করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া আর কিছুই না।

সদ্য প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকেরকে আপনি পুরস্কারটি উৎসর্গ করেছেন। তাঁর সম্পর্কে কিছু বলবেন?
আলী যাকের আমার অগ্রজ। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে মূলত আমার অভিনয়ে আসা। তাঁর মৃত্যু আমি সহজভাবে নিতে পারছি না। কিন্তু মেনে নিতে হচ্ছে। তাঁর চলে যাওয়াকে শ্রদ্ধা জানাতেই আমি আমার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারটি তাঁকে উৎসর্গ করেছি। এক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের সম্মতিও নেয়া হয়েছে।

‘আবার বসন্ত’ ছবিতে যখন অভিনয় করেছিলেন, তখন কি মনে হয়েছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবেন?
আমি ওসব ভেবে অভিনয় করিনি। তাছাড়া আমি পুরস্কারের চিন্তা করে অভিনয় করি না কখনো। কাজ ভালো হলে স্বীকৃতি এমনিতেই চলে আসবে। আমার চেষ্টা থাকে চরিত্র ঠিকভাবে ফুঁটিয়ে তোলার। আবার বসন্ত ছবির ক্ষেত্রেও তেমনটা করেছি।

এ প্রজন্মের কেউ সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। আপনি পাওয়াতে সবাই একটু অবাক হয়েছেন বটে। আপনি কি একটু অবাক হয়েছেন?

আমি অবাক হইনি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। ভালো অভিনয় করলে যে কেউ সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেতে পারেন।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন। কখনো কী একটু হাঁপিয়ে ওঠেন নিজের অজান্তে?
আমি হাঁপিয়ে ওঠার মানুষ না। অভিনয় আমার ভালোবাসার জায়গা। আমি যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই, তখন চরিত্রটাকে নিয়ে ভাবি। নিজেকে নিয়ে ভাবি না। তাই হাঁপিয়ে ওঠার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আসলে আমি একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করি। চ্যালেঞ্জে হেরে গেলে আমার খারাপ লাগে। বয়স যতই হোক, অভিনয় করে যেতে চাই দাপটের সাথে।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসা যাক। করোনা পরবর্তী সময়ে দেশের চলচ্চিত্র কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে?
কমার্শিয়াল ছবির পাশাপাশি অফ ট্র্যাকের ছবির দিকে নজর দিতে হবে। আবার বসন্ত, ন‘ডরাই, মায়া— এ ধরনের ছবি নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো সিনেমার জন্য ভালো জায়গা হতে পারে। আধুনিকতার সাথে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। সিনেমা হলের পাশাপাশি ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটগুলোতে যদি সিনেমা দেখে তাহলে প্রযোজক আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

তার মানে আপনি ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে সিনেমা হলের বিকল্প বলছেন?
বিকল্প ঠিক না। হলে সিনেমা দেখার অনুভূতি একরকম। আর অনলাইনে অন্যরকম। যার ভালো লাগবে সিনেমা হলে যাবে। কেউ কারও জায়গা দখল করতে পারবে না। তবে প্রযুক্তিকে তো আমরা অস্বীকার করতে পারব না। দেশে অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এসেছে। যদিও সেগুলো অগোছালো। আরেকটু গোছালো হলে, ধীরে ধীরে এখানে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। ওয়েব হয়ে উঠবে বিনোদনের সবচেয়ে আধুনিক মাধ্যম। মানুষ তার ইচ্ছা মতো কনটেন্ট দেখবে, হোক সেটা সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ।

দেশে ভারতীয় সিনেমা আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?
যে দেশের সিনেমাই হোক, দেশের সিনেমা যেন হুমকিতে না-পড়ে সেদিকটায় খেয়াল রাখতে হবে। নিজেদের ক্ষতি করে অন্যের উপকারের পক্ষে আমি নই। ভারতীয় ছবি আমদানির বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না।